গাইবান্ধায় শিবির সভাপতিকে গলা কেটে হত্যা করল যুবদল নেতা

June 21, 2026 | Feature-2 |

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা মোড়ে প্রকাশ্য দিনদুপুরে ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় সালাউদ্দিন নামের আরেক শিবিরকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত সাইফুল্লাহ বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আজ রোববার (২১ জুন) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সাঘাটা উপজেলা সদর সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথা ও ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান ও বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কাউয়ুম হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্কুল কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা:

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সাথে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় উপজেলা চত্বরেই বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা হয় এবং সবাই যে যার মতো চলে যান।

কিন্তু এই ঘটনার মাত্র ১০ মিনিট পরই বোনারপাড়া টু সাঘাটা প্রধান সড়কের চৌমাথা মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন। অভিযোগ উঠেছে, পূর্ব শত্রুতা ও তাৎক্ষণিক আক্রোশের জেরে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তার ভাই পলাশের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৩ জনের একটি সশস্ত্র দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর সুপরিকল্পিত হামলা চালায়।

একনজরে সাঘাটায় শিবির নেতা হত্যাকাণ্ড ও মামলার প্রাথমিক বিবরণ:
হত্যাকাণ্ডের স্থান ও সময়: ২১ জুন (রোববার) দুপুর পৌনে ৩টা; বোনারপাড়া চারমাথা ও ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সড়ক, সাঘাটা, গাইবান্ধা।

নিহত নেতার পরিচয়: সাইফুল্লাহ, সভাপতি, বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবির, সাঘাটা।

আহত কর্মী: সালাউদ্দিন (শিবিরকর্মী)। গলায় গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত প্রধান আসামিরা: সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা অভিযোগ করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ছোট ভাই পলাশ এবং বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম।

অন্যান্য সহযোগী: যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৩ জন।

রাস্তায় ফেলে জবাই ও খুনের চেষ্টা:

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা প্রথমেই মোটরসাইকেলযোগে এসে শিবিরকর্মী সালাউদ্দিনের গলায় ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তাকে বাঁচাতে ইউনিয়ন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তার ওপর ফেলে দেয়। এরপর প্রকাশ্যেই তার গলায় ছুরি চালিয়ে নৃশংসভাবে জবাই করে খুনিরা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পরই স্থানীয় আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার জিয়াউর রহমান হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত:

খবর পেয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ ও বোনারপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কাউয়ুম বলেন, “আমরা এই মুহূর্তে ঘটনাস্থলে আছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানসহ আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে নেমেছে।”

সাঘাটা থানার ওসি মাহাবুর রহমান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



Leave a Comment