হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু: সাড়ে ৩ মাসে মোট প্রাণহানি ৭০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রকোপ আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০৮ জনে। দিন দিন পরিস্থিতি জটিল হতে থাকায় সারা দেশে টিকাদান ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ শনিবার (২৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম’ থেকে প্রকাশিত দেশের হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার (২৭运行) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে আরও ৭৪৪ জন শিশুর শরীরে হামের স্পষ্ট উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে বিশেষ ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে ৪৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে।
একনজরে দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সামগ্রিক চিত্র:
গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরে নথিভুক্ত হওয়া হাম ও হামের উপসর্গের পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
| খাতের বিবরণ | ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান | ১৫ মার্চ থেকে মোট পরিসংখ্যান |
| সন্দেহজনক/উপসর্গসহ আক্রান্ত | ৭৪৪ জন শিশু | ৯৮,২৬৬ জন শিশু |
| ল্যাবে পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত আক্রান্ত | ৪৫ জন শিশু | ১১,৫৯৪ জন শিশু |
| নিশ্চিত হামে মৃত্যু | ০ জন | ৯৩ জন শিশু |
| হামের উপসর্গে (সন্দেহজনক) মৃত্যু | ৬ জন | ৬১৫ জন শিশু |
| সর্বমোট প্রাণহানি (নিশ্চিত ও উপসর্গসহ) | ৬ জন | ৭০৮ জন শিশু |
সামগ্রিক আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখের কোটায়:
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত সাড়ে তিন মাসে দেশজুড়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এ পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ২৬৬ জন শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দেওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেকোনো শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে তাকে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।