ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ ও প্রাণহানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ৫ জনের মৃত্যুতে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। অন্যদিকে বছরের শুরু থেকে আজ ২৯ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ হাজার ৯২৪ জনে।
একনজরে দেশের সার্বিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও গত কয়েক বছরের তুলনামূলক চিত্র:
গত ২৪ ঘণ্টার বিভাগভিত্তিক সংক্রমণ, লিঙ্গভিত্তিক অনুপাত এবং ২০২৩-২০২৫ সালের মহামারি পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
১. গত ২৪ ঘণ্টার ডেঙ্গু পরিসংখ্যান (২৯ জুন ২০২৬):
নতুন আক্রান্ত (হাসপাতাল ভর্তি): ১২৪ জন।
নতুন মৃত্যু: ৫ জন (চট্টগ্রাম বিভাগ ২, ঢাকা উত্তর সিটি ১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি ১, ময়মনসিংহ বিভাগ ১)।
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র: ১০০ জন।
২. বিভাগভিত্তিক নতুন রোগী ভর্তির চিত্র (২৪ ঘণ্টা):
বরিশাল বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ৩৭ জন | চট্টগ্রাম বিভাগ (সিটি করপোরেশনের বাইরে): ২৮ জন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ১৭ জন | ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: ১৬ জন।
খুলনা বিভাগ: ১৪ জন | রাজশাহী বিভাগ: ৪ জন | ঢাকা বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগ (সিটির বাইরে): ২ জন করে।
৩. চলতি বছরের মোট চিত্র (২৯ জুন পর্যন্ত):
মোট আক্রান্ত: ৫,৯২৪ জন (পুরুষ: ৬২.১%, নারী: ৩৭.৯%)।
মোট সুস্থ (ছাড়পত্রপ্রাপ্ত): ৫,৪৫৫ জন | মোট মৃত্যু: ১৮ জন।
৪. বিগত বছরগুলোর চূড়ান্ত ডেঙ্গু পরিসংখ্যান (১ জানুয়ারি–৩১ ডিসেম্বর):
২০২৫ সাল: মোট আক্রান্ত ১,০২,৮৬১ জন | মোট মৃত্যু: ৪১৩ জন।
২০২৪ সাল: মোট আক্রান্ত ১,০১,২১৪ জন | মোট মৃত্যু: ৫৭৫ জন।
২০২৩ সাল (সবচেয়ে ভয়াবহ): মোট আক্রান্ত ৩,২১,১৭৯ জন | মোট মৃত্যু: ১,৭০৫ জন।
পুরুষদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি, এডিস নিয়ন্ত্রণে তাগিদ:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। মোট আক্রান্তের ৬২.১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৯ শতাংশ নারী। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১০০ জন ডেঙ্গুরোগী। চিকিৎসকেরা বলছেন, পূর্ববর্তী বছরগুলোর (২০২৩-২০২৫) ভয়াবহ অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার আগেভাগেই সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনকে মশক নিধনে জোর দিতে হবে। বাসা-বাড়ির ছাদ, ফুলের টব বা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি তিন দিনের মধ্যে ফেলে দেওয়ার জন্য নাগরিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।