দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে শেষ ১৬-তে কানাডা

June 30, 2026 | Feature-2 |

ক্রীড়া প্রতিবেদক: নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর প্রহর গুনছিল, ঠিক তখনই লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামে আছড়ে পড়ল এক মহাকাব্যিক মুহূর্ত। যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচের ডেডলক ভাঙলেন স্টিভেন ইউস্টাকিও। আর তাতেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ১৬’ বা শেষ ষোলোতে পা রাখল কানাডা। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এর আগে কখনো বিশ্বকাপের নকআউটে ম্যাচ না জেতা কানাডার জন্য এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক সফলতা।

বাংলাদেশ সময় গত পরশু রোববার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত সোফি স্টেডিয়ামে (SoFi Stadium) বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর উদ্বোধনী নকআউট ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল।

একনজরে কানাডা বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার নকআউট ম্যাচের বিবরণ:
সোফি স্টেডিয়ামে কানাডার ইতিহাস গড়ার সংক্ষিপ্ত ম্যাচ ডায়েরি:

ম্যাচের টুর্নামেন্ট ও পর্ব: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ, রাউন্ড অব ৩২ (নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচ)।

ম্যাচের তারিখ ও সময়: ২৮ জুন (রোববার দিবাগত রাত), বাংলাদেশ সময় রাত ১:০০ টা।

ভেন্যু: সোফি স্টেডিয়াম, লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র।

ফলাফল: কানাডা ১ – ০ দক্ষিণ আফ্রিকা (কানাডা শেষ ষোলোতে উত্তীর্ণ)।

ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা: স্টিভেন ইউস্টাকিও (Stephen Eustáquio) — ম্যাচের ৯১ মিনিটে।

ম্যাচের সেরা মুহূর্ত: ৬৫ মিনিটে জোনাথন ডেভিডের শট গোলকিপার উইলিয়ামস ও ডিফেন্ডার এমবোকাজি কর্তৃক গোললাইন থেকে রক্ষা।

গোলশূন্য প্রথমার্ধ ও ৬৫ মিনিটের সেই রোমাঞ্চ:
নকআউট পর্বের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের শুরু থেকেই দুই দলই বেশ সাবধানী ফুটবল খেলতে থাকে। ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। বিরতির পর কৌশল পরিবর্তন করে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে দুই দলই। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে প্রায় নিশ্চিত গোলের সুযোগ মিস করে কানাডা। দলের তারকা ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিডের নেওয়া জোরালো শট চমৎকার দক্ষতায় পা বাড়িয়ে রুখে দেন দক্ষিণ আফ্রিকান গোলকিপার উইলিয়ামস। তবে রিবাউন্ড বল থেকে আবারও গোল হতে পারত, কিন্তু সে যাত্রায় হিরো বনে যান প্রোটিয়া ডিফেন্ডার এমবোকাজি।

৯১ মিনিটের ম্যাজিক ও কানাডার উল্লাস:

খেলার নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত দুই দলের ফরোয়ার্ডরাই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের দৈর্ঘ্য যখন অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ানোর শতভাগ নিশ্চিত, ঠিক তখনই অর্থাৎ ৯১ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের দেয়াল ভেঙে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় কানাডা। দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে লক্ষে শট নেন স্টিভেন ইউস্টাকিও। বল জালে জড়াতেই সোফি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার কানাডিয়ান সমর্থক বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নতুন পরাশক্তি হিসেবে জানান দিল উত্তর আমেরিকার দেশটি।



Leave a Comment