আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করলেন আপিল বিভাগ

June 30, 2026 | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ওই আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও আইনি মারপ্যাঁচে তাঁর সেই ফলাফল আর গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। এর আগে গত ১৫ জুন দীর্ঘ শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি (৩০ জুন) ধার্য করেছিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

একনজরে চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর আইনি লড়াইয়ের কালপঞ্জি:
মনোনয়নপত্র জমাদান থেকে শুরু করে চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত রূপরেখা:

১৮ জানুয়ারি: ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিনে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা।

ব্যাংকের রিট ও হাইকোর্টের রায়: ইসি-র এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের করা রিট আবেদন হাইকোর্ট সরাসরি খারিজ করে দেন।

৩ ফেব্রুয়ারি (আপিল বিভাগের আদেশ): হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন। আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করে আদেশ দেন যে— আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করতে পারলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে।

১২ ফেব্রুয়ারি (নির্বাচন ও বিজয়): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে জয়ী হন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেনি।

১৫ জুন: আপিল বিভাগে দুই পক্ষের চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয় এবং রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করা হয়।

৩০ জুন (চূড়ান্ত রায়): আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেন।

আদালতে দুই পক্ষের আইনজীবী প্যানেল:
এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানিতে উভয় পক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীরা অংশ নেন:

জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে (আবেদনকারী): সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির এবং আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর পক্ষে: সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

ঋণখেলাপির জালে বেসরকারি বিজয়ের করুণ পরিণতি:
আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা ঋণখেলাপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন বাতিল করলেও ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন তাকে বৈধতা দেয়। পরবর্তীতে এই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতে যান। ৩ ফেব্রুয়ারির আদেশের কারণে আসলাম চৌধুরী সশরীরে ব্যালটের লড়াইয়ে নামার সুযোগ পান এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভও করেন। তবে আজ আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পর তাঁর সেই বিজয় আইনিভাবে অকার্যকর হয়ে গেল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে চট্টগ্রাম-৪ আসনে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে অথবা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হতে পারে, যা নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট হবে।



Leave a Comment