ঢাকা-১৫ আসনের জনদুর্ভোগ নিরসনে ডা. শফিকুর রহমান ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর যৌথ পরিদর্শন
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে এক বিশেষ নাগরিক সমাবেশ, মতবিনিময় সভা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম যৌথভাবে পরিদর্শন করেছেন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। আজ বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টায় রাজধানীর স্থানীয় এলাকাগুলোতে এই পরিদর্শনের পাশাপাশি এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি। তাঁর সাথে এই বিশেষ পরিদর্শনে অংশ নেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর শাহে আলম, এমপি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মাননীয় প্রশাসক জনাব শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
একনজরে ঢাকা-১৫ আসনের নাগরিক সমাবেশ ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাসমূহ (০১ জুলাই ২০২৬):
পানি, গ্যাস, জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও সরকারি প্রতিনিধিদের বার্তার মূল নির্যাস:
| আলোচনার মূল ক্ষেত্র | উদ্ভূত নাগরিক সমস্যা ও কারণসমূহ | বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের আহ্বান ও সিদ্ধান্ত |
| ১. জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু | যেখানে-সেখানে বর্জ্য ও ড্রেনে ময়লা ফেলার কারণে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা এবং ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বিস্তার। | নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং পরিচ্ছন্ন নাগরিক দায়িত্ব পালন। |
| ২. ইউটিলিটি সংকট | ঢাকা-১৫ আসনে বিদ্যমান পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট। | বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিক; সমস্যা সমাধানে সরকার, বিরোধী দল ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। |
| ৩. আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন | সামাজিক নিরাপত্তা ও কিশোর অপরাধের বিস্তার রোধ। | পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং সন্তানদের বন্ধু নির্বাচন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা। |
| ৪. সরকারি সমন্বয় | স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ পরিদর্শন। | ঢাকা-১৫ আসনের নাগরিক সমস্যা দ্রুত সমাধানে বিশেষ অগ্রাধিকার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। |
‘উন্নয়ন ও সংকটের সমাধানে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ’:
যৌথ পরিদর্শন ও নাগরিক সমাবেশে জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এমপি বলেন, “পানি, গ্যাস ও জলাবদ্ধতার মতো অনেক বড় নাগরিক সমস্যার পেছনে মানুষের অসচেতনতাও একটি বড় কারণ। আমরা যদি ড্রেনে ময়লা নিক্ষেপ বন্ধ না করি, তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়।” বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই সংকট নিরসনে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে কেবল সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে রাষ্ট্র গঠনে সরকার, বিরোধী দল এবং সাধারণ মানুষের ত্রিমুখী সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ গড়তে তিনি পরিবার থেকেই সন্তানদের প্রতি যত্ন নেওয়ার তাগিদ দেন।
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী ও ডিএনসিসি প্রশাসকের আশ্বস্ত বার্তা:
যৌথ পরিদর্শন শেষে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তাঁর বক্তব্যে ঢাকা-১৫ আসনের জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত বিশেষ বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, বর্ষা মৌসুমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
এই যৌথ পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সুধীসমাজ, বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা-১৫ আসনের সাধারণ নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা তাঁদের দীর্ঘদিনের গ্যাস, পানি ও সড়কের ভোগান্তির কথা সরাসরি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সামনে তুলে ধরেন।