হাম ও এর উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ১১৯

July 2, 2026 | Feature-1 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৫টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১১৯ জন শিশু। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫টি শিশুই হামের নানাবিধ তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল, তবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এই ২৪ ঘণ্টায় কোনো শিশুর মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সামগ্রিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৬৩১টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম পজিটিভ হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৯৩টি শিশু মারা গেছে। সব মিলিয়ে গত সাড়ে তিন মাসে দেশে হাম ও হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে মোট ৭২৪টি নিষ্পাপ শিশু। প্রতিবেদনটি আরও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৫৪ জন শিশু এবং হামের তীব্র উপসর্গজনিত নতুন রোগীর সংখ্যা ৯৬৫ জন। এই একই সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ও সাধারণ হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৯০২ জন শিশু এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৮৭৭ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে আজ ২ জুলাই পর্যন্ত দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের সংগৃহীত মোট তথ্যে দেখা গেছে, এই সময়ে সারা দেশে সর্বমোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩ জনে, যাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ২৮৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র শারীরিক জটিলতার কারণে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে মোট ৮৬ হাজার ৪১১ জন রোগীকে। আশার কথা হলো, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে ৮২ হাজার ৭৫৯ জন শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন।



Leave a Comment