নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে ১১ দলীয় জোটকে হারানো হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারও সেই চক্রান্তের অংশ: জামায়াত আমির
স্টাফ রিপোর্টার: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলীয়ে জোটকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেই সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীতে বীর বিক্রম উপাধিতে ভূষিত প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’ শীর্ষক এক উচ্চपर्याয়ের জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন।
সেমিনারে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশবাসী ও তাঁর দল কৌশলগত কারণে জাতীয় নির্বাচনের রায়কে আপাতত মেনে নিলেও, গণভোটের মাধ্যমে উঠে আসা জনগণের আসল রায়কে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য বা ধামাচাপা দিতে দেবে না। একই সাথে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে নতুন কিংবা পুরোনো—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান বা অবয়ব আর মেনে নেওয়া হবে না এবং দেশের সাধারণ জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যতে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেবে না।
সেমিনারে নিজের দীর্ঘ বক্তব্যে জামায়াত আমির ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব ও আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, দেশের অগণিত মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে কেউ যদি ন্যূনতম শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করে কিংবা জুলাইয়ের শহীদদের অসম্মান করার দুঃসাহস দেখায়, তবে দেশের জাগ্রত জনতা তা কোনো অবস্থাতেই সহ্য করবে না। ওই একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ যদি সামনের দিনগুলোতে আর কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তপাত বা রাজনৈতিক সংঘাত না চায়, তবে বর্তমান সরকারের উচিত হবে অতি দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে গণভোটের প্রকৃত রায় বাস্তবায়নের পথে হাঁটা।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করতে এবং জনগণের ভোটাধিকার শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ইস্পাতকঠিন ঐক্যের ওপর বিশেষ জোর দেন। রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে জোটভুক্ত ১১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদেরা অংশ নেন, যেখানে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকারিতা, জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে দিনভর জোরালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়। ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের এই যৌথ উপস্থিতি ও কড়া অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক সমীকরণের আভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।