ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত বেড়ে ১৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে মার্কিন যুদ্ধবিমানের নতুন করে শুরু হওয়া সর্বাত্মক ও বিধ্বংসী হামলায় ইরানজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
তেহরানের আনুষ্ঠানিক সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন এই নতুন দফার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের অন্তত পাঁচটি প্রদেশে এ পর্যন্ত ১৪ জন নাগরিক নিহত এবং আরও ৭৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই অতর্কিত সামরিক আগ্রাসনে দেশটির বেসামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মার্কিন এই ভয়াবহ ও একতরফা আগ্রাসনের মুখে হাত গুটিয়ে বসে নেই তেহরান।
মার্কিন বাহিনীকে এর উপযুক্ত ও কড়া জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের তিন মুসলিম দেশ কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইনে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একযোগে বিপুল সংখ্যক অত্যাধুনিক ও আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে স্মরণকালের অন্যতম বড় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কমান্ড থেকে প্রকাশিত এক যুদ্ধকালীন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের ছোঁড়া ড্রোনের একটি বড় বহর কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অত্যাধুনিক ‘প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম’ সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। একই সময়ে কাতারে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর একটি মহাকাশ ও আকাশ প্রতিরক্ষা বিষয়ক ‘আর্লি ওয়ার্নিং স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা সাইট’ এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের মালিকানাধীন প্রধান প্রধান কৌশলগত জ্বালানি ট্যাংকে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে ইরানি ড্রোন।
তেহরান সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এই বিশাল ও সমন্বিত আকাশ আক্রমণে তারা বিভিন্ন পাল্লার ও ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তির বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করেছে, যা মার্কিন রাডার ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যে আঘাত হানে। এই রক্তক্ষয়ী বিমান ও পাল্টা ড্রোন হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায় গিয়ে ঠেকেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে সেখানে পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাত্মক আঞ্চলিক মহাযুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
এদিকে ড্রোন হামলার পর এক বিশেষ বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ও কঠোরতম ভাষায় চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়ে ইরানি সামরিক কমান্ড স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোকা প্রেসিডেন্ট’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো ধরনের অবৈধ সামরিক লক্ষ্য, আধিপত্যবাদী মনস্তত্ত্ব ও উগ্র আকাঙ্ক্ষা কোনো অবস্থাতেই ইরানি ভূখণ্ডে পূরণ হতে দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিদেশী আগ্রাসন ও সাম্রাজ্যবাদী থাবাকে প্রতিহত করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি বিপ্লবের সুমহান আদর্শ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে ইরানি সেনারা নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও বিবৃতিতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই পারমাণবিক ও সামরিক শক্তির এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দামকে রাতারাতি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।