ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলা স্থগিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: টানা ১৩ দিন ধরে প্রতিরাতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অনুমোদনের পর অবশেষে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার থেকে তিনি এই সাময়িক হামলা বন্ধের নির্দেশনা জারি করেন। তবে এই হামলা স্থগিতের পদক্ষেপটি স্বল্পমেয়াদী কূটনৈতিক বিরতি নাকি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনের ইঙ্গিত—তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
মার্কিন রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর বিশেষ প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের পেছনে দুটি মূল কারণ কাজ করছে। একদিকে আলোচনা ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখা, অন্যদিকে ব্যাপক মাত্রার সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু না করে চলমান হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্জিত কৌশলগত লক্ষ্যকে সর্বোচ্চসীমায় ধরে রাখা।
ইসরায়েলের সতর্ক অবস্থান ও মার্কিন বাহিনীর প্রস্তুতি
হোয়াইট হাউসের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল ইসরায়েল। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ধারণা করেছিল যে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আরও এক দফা বড় ধরনের হামলা চালাবে। ফলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টাহামলা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে শুক্রবার রাতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেল আবিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে অতিরিক্ত হামলার অনুমোদন দেননি।
তবে মার্কিন প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো স্বল্প সময়ের নোটিশে ইরানে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি তৈরি রাখছে। হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ওমানের মধ্যস্থতা ও হরমুজ প্রণালি চুক্তি
ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুক্রবার ওমানের একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও সামুদ্রিক বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নতুন সমঝোতা আলোচনা শুরু করার পরপরই ট্রাম্প হামলা স্থগিতের এই নির্দেশ দেন।
আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ওমান ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের এই আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে এবং সপ্তাহান্তেই একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ওমান-ইরান আলোচনা সফল হলে চুক্তিটি প্রেসিডেন্টের টেবিলে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প তা অনুমোদন করবেন কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী সামরিক পরিস্থিতি।