তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে জামায়াত আমীরের তাগিদ
চট্টগ্রাম ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের ভাগ্য জড়ানো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের বাস্তব ও দৃশ্যমান অগ্রগতি এখন দেশের সাধারণ জনগণ সশরীরে দেখতে চায় বলে বিশেষ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ঠিক সাড়ে ৮টায় বিমানযোগে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পদার্পণ করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের সামনে উপস্থিত স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত এই প্রেস ব্রিফিং শেষ করেই বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মারাত্মকভাবে বন্যাকবলিত হয়ে পড়া চট্টগ্রামের দক্ষিণ অঞ্চলের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীর উদ্দেশে সড়কপথে রওনা দেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দিনভর বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন প্লাবিত ও দুর্গম এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় তহবিলের পক্ষ থেকে হাজার হাজার বন্যাদুর্গত ও গৃহহীন মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য, শুকনো খাবার ও বিশেষ ত্রাণ সহায়তা সরাসরি বিতরণ করার কথা রয়েছে আমীরে জামায়াতের।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিস্তা নদী ও উত্তরবঙ্গের সেচ সংকট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের ন্যায়সঙ্গত দাবিটি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শুরু থেকেই অত্যন্ত জোরালো ও দৃঢ়ভাবে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের এই যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময় এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সুস্পষ্ট রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার ও আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে। তবে আমরা মনে করি, এখন আর মুখে শুধু আশ্বাস দেওয়ার দিন নয়, বরং সেই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার এবং মাঠে কাজ শুরু করার আসল সময় এসেছে। তিনি এই প্রকল্পের বিশালতা ও জটিলতার কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, ‘আমরা খুব ভালো করেই জানি যে এটি অত্যন্ত বিশাল ও একটি দীর্ঘমেয়াদী মেগা প্রকল্প, যা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু সরকারের নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে যদি শতভাগ আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে কাজ করা হয়, তবে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজের অগ্রগতি অবশ্যই জনগণের সামনে দৃশ্যমান হওয়া উচিত এবং দেশের সাধারণ জনগণ এখন সেই দৃশ্যমান পরিবর্তনটাই দেখতে চায়।’
এ সময় চট্টগ্রামের চিরস্থায়ী ও দুঃসহ জলাবদ্ধতা সংকট প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের আমীর বলেন, বীর চট্টলা তথা চট্টগ্রাম হচ্ছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের একমাত্র বাণিজ্যিক রাজধানী এবং দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সামান্য ও মৃদু বৃষ্টিপাত হলেই অলংকার, মুরাদপুর, চকবাজারসহ এই ঐতিহ্যবাহী মেগাসিটির বিভিন্ন নিচু এলাকায় বুক সমান পানি জমে যায় এবং পুরো নগরী স্থবির হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীর যাতায়াত ও দৈনন্দিন দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়, ময়লা-আবর্জনার নালা–নর্দমা উপচে পড়ে রোগব্যাধি ছড়ায়, যা কোনোভাবেই একটি আধুনিক বাণিজ্যিক শহরের চিত্র হতে পারে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত প্রশাসনের প্রতি তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত নরকজাতীয় সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধান করা সম্পূর্ণভাবে সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও কর্তব্য।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মৌলিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন ও নাগরিক সমস্যাগুলো রাজপথ থেকে সুশৃঙ্খলভাবে সরকারের নজরে এনে তা সমাধানের জন্য চাপ সৃষ্টি করাই হচ্ছে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গণমুখী সংগঠন হিসেবে রাজপথে জনগণের সেই ন্যায্য অধিকার আদায়ের দায়িত্ব নিয়মিত পালন করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আমরা আমাদের সাধ্য ও দলীয় সামর্থ্য অনুযায়ী দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বানভাসি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরাসরি ত্রাণের ব্যাগ নিয়ে দাঁড়াচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা দক্ষিণ চট্টগ্রামের অবহেলিত ও বন্যায় লণ্ডভণ্ড হওয়া বাঁশখালী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে পরম মমতায় দাঁড়াতে এবং তাঁদের দুর্দশা সশরীরে দেখতে যাচ্ছি। এ সময় বিমানবন্দরে জামায়াত আমীরকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।