সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছাড়লেন ৩১১ পর্যটক
রাঙামাটি প্রতিনিধি: টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের কারণে রাঙামাটির দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলার মেঘের রাজ্য খ্যাত সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়া শত শত পর্যটকের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩১১ জন পর্যটক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অত্যন্ত সুরক্ষিত ও বিশেষ এসকর্ট সহায়তায় নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেছেন।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় জোন ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের অভূতপূর্ব ও রেকর্ডভাঙা অতিবৃষ্টির ফলে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভূমিধস সৃষ্টি হওয়ায় এবং প্রধান প্রধান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পাহাড়ি এই পর্যটনকেন্দ্রে নারী ও শিশুসহ মোট ৫৬১ জন দেশী-বিদেশী পর্যটক চরম অবরুদ্ধ ও আটকা পড়েছিলেন।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রথম দফায় সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্ধার দল ও গাড়ি বহরের সমন্বিত সহায়তায় প্রথম ব্যাচে ১৫০ জন পর্যটককে অত্যন্ত সফলভাবে এবং নিরাপদে সাজেক থেকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল।
বাঘাইহাট সেনা জোনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, আজ শুক্রবার সকাল ঠিক ৯টায় দ্বিতীয় দফার উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ৩১১ জন পর্যটককে সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তামূলক এসকর্টের মাধ্যমে চাঁদের গাড়ি ও মাইক্রোবাসের বিশাল বহর নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের উদ্দেশে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সাজেক ভ্যালির বিভিন্ন কটেজ ও রিসোর্টে অবশিষ্ট থাকা প্রায় ১০০ জন পর্যটকের সবাই সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন এবং তাদেরকেও আজ দুপুরের পর থেকে পর্যায়ক্রমে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সাজেক থেকে সমতলে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে রাঙামাটি জেলাজুড়ে শুরু হওয়া টানা অতিবর্ষণ, বিপজ্জনক ভূমিধস ও আকস্মিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম ঝুঁকির বিষয়টি বিচক্ষণতার সাথে বিবেচনা করে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাজেক ভ্যালির সকল পর্যটনকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা ওই বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, রাঙামাটির বিভিন্ন পাহাড়ের ঢালে মারাত্মক ভূমিধস, পাহাড়ধস ও যান চলাচলের রাস্তা উপড়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই সাজেক ভ্রমণে আসা সাধারণ পর্যটক ও স্থানীয় আপামর জনসাধারণের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই কড়া নিষেধাজ্ঞা ও বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ওই জরুরি ও কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে নতুন করে কোনো পর্যটক বা পর্যটকবাহী গাড়ি সাজেক সীমান্তে প্রবেশ করতে পারেনি।
তবে এই সরকারি সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে কার্যকর ও প্রচার হওয়ার আগেই সাজেকের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা শত শত পর্যটক আকস্মিকভাবে আটকা পড়েন এবং পাহাড়ি এলাকায় খাবার ও পানির সংকটের মুখোমুখি হন। অবরুদ্ধ সেই পর্যটকদের দ্রুত ও নিরাপদে নিজেদের পরিবারে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে এই সফল উদ্ধার ও এসকর্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা পর্যটক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।