নবনিযুক্ত নৌপ্রধান মিসবাহ-উল-আজীমকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৮তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া নবনিযুক্ত ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীমকে আনুষ্ঠানিক র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আয়োজিত এক মর্যাদা পূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান যৌথভাবে তাঁকে এই র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জমকালো আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা
র্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর প্রধানমন্ত্রী নতুন নৌপ্রধানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন। অন্যদিকে, দায়িত্বভার গ্রহণ শেষে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নতুন নৌপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীম।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম
বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান
সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান
প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।
চার দশকের এক বর্ণাঢ্য সামরিক জীবন
নতুন নৌপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ-উল-আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। শিক্ষাজীবনে অসাধারণ সাফল্যের জন্য তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ‘চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিলেন। এছাড়া তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনী থেকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
প্রায় চার দশকের দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে যেসব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন:
কমান্ড পদসমূহ: কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি।
সদর দপ্তর ও জাহাজ: নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক (নৌ অপারেশনস), পরিচালক (নৌ পরিকল্পনা) এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়ক।
আন্তর্জাতিক সেবা ও কূটনীতি: লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সামরিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) এবং জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ একাধিক মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত তিন বছরের জন্য নৌপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন।