বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজী মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম

July 29, 2026 | Feature-1 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এক নতুন অগ্রগতির খবর নিশ্চিত করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ এবং মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে প্রাথমিক দফায় ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার সরকার।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও প্রত্যাবাসন আলোচনা
মালয়েশিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’-র বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সী‘ জানায়, এই চুক্তিকে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সংকট সমাধান ও মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেকেই গণমাধ্যমে বলেন ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাও’। কিন্তু ফেরত পাঠানোর জায়গা কোথায়? মিয়ানমার তো এতদিন তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। এ কারণেই মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি ছিল। কূটনৈতিক আলোচনার পথ ধরেই তারা প্রথম ধাপে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার জনকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে।”

একইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সম্মতির কথা জানালেও, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানান তিনি। মিয়ানমারের ওপর ধারাবাহিক কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

প্রেক্ষাপট ও আশ্রয়কেন্দ্রের চিত্র
সম্প্রতি পেনাং রাজ্যের একটি আবাসন থেকে শতাধিক রোহিঙ্গা কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে আশ্রয় ও সুরক্ষার দাবি জানায়। এরপর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের ঐ দলটিকে কুয়ালালামপুর, সেলানগোর ও পেনাংয়ের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করে। ওই ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এল।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বর্বর অভিযান ও চরম নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে গৃহহীন হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখেরও বেশি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। পাশাপাশি জীবন বাজি রেখে ট্রলার ও বিপজ্জনক সমুদ্রপথে শত শত রোহিঙ্গা প্রতি বছর মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে আসছে।



Leave a Comment