পাকিস্তানে সোয়াত উপত্যকায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১৪, আহত ২২

August 3, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকায় একটি থানার প্রবেশদ্বারে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন কাবাল শহরের পুলিশ স্টেশনের সামনে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

তল্লাশি চৌকিতে হামলা ও হতাহতের চিত্র
সোয়াত জেলার পুলিশ কর্মকর্তা ওমর খান জানান, প্রবেশপথে তল্লাশির জন্য পুলিশ সদস্যরা থামানোর সংকেত দিলে হামলাকারী নিজেকে বোমায় উড়িয়ে দেয়। পার্শ্ববর্তী এলাকায় বাড়তে থাকা সহিংসতার প্রতিবাদে আয়োজিত এক শান্তি সমাবেশের ঠিক শেষ মুহূর্তে এই হামলা চালানো হয়।

সোয়াত পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ফিদা হোসেন জানান, আহত ২২ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

তালেবানবিরোধী সমাবেশ ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
সোয়াত উপত্যকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-এর পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে এবং নিরাপত্তার দাবিতে ওই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়, সাধারণ মানুষের ওপর কড়াকড়ি জোরদার করা হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাহাড়ি এলাকায় স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের বরাতে সমাবেশ থেকে এক বক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আর এক প্রজন্ম বিধবা ও এতিম দেখতে চাই না।”

রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক উত্তাপ
হামলার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে ব্যাপক তল্লাশি ও তদন্ত শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারী, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী। সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুন ব্যক্ত করেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে টিটিপির সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসেই এই অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় ১৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব হামলার পেছনে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রশ্রয় রয়েছে বলে ইসলামাবাদ দাবি করলেও কাবুল তা বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছে।



Leave a Comment