আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
বিশেষ প্রতিবেদক: দেশে চলমান লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে সব ঠিক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাস সংকট কেটে যাবে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া-মোনাজাত ও অসহায়-দরিদ্রদের অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব ও নতুন এলএনজি টার্মিনাল
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, আর হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে— ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’; এগুলো হঠকারিতা।”
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। সংকট কাটাতে ইতোমধ্যে চীন ও মালয়েশিয়ার সাথে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ-গ্যাস সমাধানের বস্তুনিষ্ঠ রূপরেখা থাকলে তা সরকার সানন্দে গ্রহণ করবে। অন্যথায় বিভ্রান্তিকর ও রাস্তায় ভাঙচুরের রাজনীতি পরিহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত শাসনের ঋণ ও অবকাঠামোগত সংকট
পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের মেগা দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার মেগাপ্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করে দেশকে ফোকলা করে গেছে এবং বিদ্যুৎ খাতেই প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার ঋণ রেখে গেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে নিজস্ব গ্যাসের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অতীতের ভুল নীতির কারণে নতুন কূপ খনন না করে খাতটিকে বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীল করে গড়ে তোলা হয়েছিল।
৬ মাসের সাফল্য ও শহীদ জিয়ার আদর্শ
নিজের সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “একটি শিশু হাঁটতে শিখতেও অন্তত এক বছর সময় লাগে, সেখানে বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ৬ মাস।” দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মক্ষম শ্রমিকশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রীয় ও জনকল্যাণমুখী কাজে জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।