ইসলামী ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুত ও গ্রাহক ফোরামের সংঘর্ষ; দুই পক্ষের ৫৫ জন আহত
নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শিল্পগোষ্ঠী ‘এস আলম গ্রুপ’-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় অবৈধ নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুত কর্মী এবং ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে মতিঝিলস্থ ব্যাংকের প্রধান ভবনের সামনে এই সংঘর্ষ ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া
অবস্থান ও হামলা: সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মীরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ব্যাংকের মূল ফটকের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান নেন। একই সময়ে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া: একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হলে মূল সড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও দুই পক্ষই এলাকা ছাড়ে।
উভয় পক্ষের দাবি ও অভিযোগ
সচেতন গ্রাহক ফোরামের বক্তব্য: সংগঠনের সভাপতি নুর উন নবী মানিক দাবি করেন, “অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত বরখাস্ত কর্মীদের সাথে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংক পুনর্গঠনের মুখে তারা নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ওপর পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা চালানো হয়। এতে গুরুতর ৫ জনসহ আমাদের ৩০ জন সদস্য আহত হয়েছেন।”
চাকরিচ্যুত কর্মীদের বক্তব্য: চাকরিচ্যুত কর্মী শহিদুল ইসলাম জানান, “আমরা পুনর্বহালের দাবিতে দাঁড়ানোর ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরাম নামধারী ক্যাডাররা হামলা চালায়। আমাদের ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিয়ে আমাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে।”
পুলিশ প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ডিএমপির অবস্থান: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ জানান, সকালে অবস্থান নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মীরা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কেপিআই (Key Performance Indicator) বা অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাঁদের দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের এই ঘটনা সংক্রান্ত পরবর্তী প্রশাসনিক বা আইনি হালনাগাদ তথ্যের জন্য জানাতে পারেন।