আমরা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না, সমমর্যাদা চাই: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

September 14, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা থাকলেও এখন পর্যন্ত দিল্লির পক্ষ থেকে সমান মর্যাদাপূর্ণ সুসম্পর্কের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না জানানো এবং ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতার সুযোগ করে দেওয়া সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ব্রিকস সম্মেলন ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে স্পিকারের বক্তব্য

ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণে অনীহা: স্পিকার প্রশ্ন তুলে বলেন, “ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে তারাও যে আন্তরিক সুসম্পর্ক চায়, তার দৃশ্যমান আলামত নেই। ব্রিকস সম্মেলনে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একজন সরকারপ্রধান হিসেবে সঠিক মর্যাদা দিয়ে তারা এখনও প্রটোকল অনুযায়ী আমন্ত্রণ জানায়নি। সম্পর্কের গতি কেবল কূটনৈতিক চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।”

পলাতক নেতাকে আশ্রয় প্রসঙ্গ: শেখ হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় ও সেখান থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকার বলেন, এই ধরনের অবস্থান প্রতিবেশীর সঙ্গে বৈরী আচরণ সৃষ্টি করে।

‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ প্রসঙ্গ: বিগত আওয়ামী লীগ আমলের সম্পর্কের সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “অতীতে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ হিসেবে অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেই দাসত্বমূলক সম্পর্ক চাই না। আমরা দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সমমর্যাদার সম্পর্ক নিশ্চিত করতে চাই।”

সংসদ, জুলাই সনদ ও সরকারের কার্যকারিতা

সরকারের গতি ও চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বিপুল জনমত ও নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস পার হয়েছে। কিন্তু বিগত ১৭ বছরের ধ্বংসস্তূপ ও সংকট কাটিয়ে দেশকে পূর্ণ স্থিতিশীলতায় ফেরাতে স্বাভাবিকভাবেই কিছু সময়ের প্রয়োজন।”

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় সংসদে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো উত্থাপিত হলে সর্বসম্মত ঐকমত্যের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পরিবর্তন ও সংবিধানে সংশোধনী আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



Leave a Comment