প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
নিউজ ডেস্ক : প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় অনলাইন খাবার ও পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গুলশান থানা পুলিশের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের তালিকা
আদালতের পরোয়ানাপ্রাপ্ত ফুডপান্ডা বাংলাদেশের কর্মকর্তাগণ:
সৈয়দা আমবারীন রেজা (৪০): কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)
জুবায়ের সিদ্দিকী (৪৬): কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক
মো. তাবরেজ খান (৪০): পান্ডামার্ট-এর পরিচালক
দিলারা ফারুক (৪৫): হেড অব ক্যাটাগরি
মোহাম্মদ সাজেদুল হক (৪২): সিনিয়র ম্যানেজার
মামলার পটভূমি ও পুলিশি তদন্ত
মামলা ও তদন্তের সার্বিক বিবরণ:
মামলা দায়ের: ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি) প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে গত বছরের ৩ জুলাই জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে এ মামলা দুটি দায়ের করেন। আদালত প্রাথমিক শুনানির পর গুলশান থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা: তদন্ত শেষে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মো. মশিউর রহমান ও মো. সাখাওয়াত হোসেন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আজ সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরোয়ানা জারি হয়।
অভিযোগের ধরন: মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের ২৩ জুন পান্ডামার্টের সাথে চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ শুরু করেন বাদী। শুরুতে নিয়মিত অর্থ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে ১ লাখ টাকার বিপরীতে ১ থেকে ১০০ টাকার মতো নগণ্য অর্থ ব্যাংকে দেওয়া হয়। এছাড়া জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ দেখিয়ে আসামিরা প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযোগ প্রসঙ্গে ফুডপান্ডা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে:
ব্যবসায়িক বিরোধের দাবি: প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের কর্মীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার সাথে মূল প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত নয়। ব্যবসায়িক বিরোধের জেরেই এই মামলাগুলো করা হয়েছে এবং পুলিশি তদন্তে কর্মীদের কোনো ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণিত হয়নি বলে তারা উল্লেখ করে।