বোয়িং থেকে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ: মাহদী আমিন
নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণ ও নতুন রুট চালুর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে বিমানের চুক্তি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন (ইউএনজিএ) কেন্দ্রিক বহুমুখী কূটনৈতিক তৎপরতার সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।
বোয়িং চুক্তি ও এভিয়েশন খাতের অগ্রগতি
চুক্তি স্বাক্ষর ও উপস্থিতি: বোয়িংয়ের সাথে ১১টি বিমান ক্রয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে বোয়িং প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
রুট সম্প্রসারণ ও এয়ারবাস প্রসঙ্গ: বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক নতুন পথ চালুর চাহিদা থাকায় এ কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা জানান, মার্কিন বোয়িংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সাথেও আলোচনা হতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকট, আন্তর্জাতিক সহায়তা ও মিয়ানমার পরিস্থিতি
যৌথ আয়োজন ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন: বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘ সম্মেলনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন আয়োজিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে, অথচ আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
প্রত্যাবাসন ও কূটনৈতিক চ্যানেল: রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, মিয়ানমারে নিপীড়নের জবাবদিহি এবং চীনের সাথে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রাখা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, ‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়।’ ভারত, চীনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও জলবায়ু নীতি
প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও জাতীয় জলবায়ু কৌশল:
ক্রোয়েশিয়া, ইরান ও গেটস ফাউন্ডেশন: ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাণিজ্য ও অভিবাসন বাড়ানোর বৈঠক হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে প্রবাসীদের নিরাপত্তা, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ থেকে শান্তির পক্ষে মধ্যস্থতা করতে রাজি। এছাড়া গেটস ফাউন্ডেশনের সাথে বৈঠকে দেশে প্রতিষেধক বা টিকা উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি ও কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
জলবায়ু তহবিল ও কার্বন হ্রাস: নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রচার নিশ্চিত করে কার্বন নিঃসরণ কমানোর সরকারের রূপরেখা বিশ্বনেতাদের কাছে তুলে ধরা হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য
বাংলায় ভাষণের প্রস্তুতি: প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের সফর কর্মসূচির আরও দুই দিন বাকি রয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী আগামীকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) মূল অধিবেশনে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।