হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য ও অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস চালুর পরামর্শ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: দৈনন্দিন ব্যক্তিগত কথোপকথন, ছবি, ভিডিও এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আদান-প্রদানে বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে এনক্রিপশন থাকলেও অসতর্কতার কারণে তথ্য হাতছাড়ার ঝুঁকি থেকে যায়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিশাসকরা অ্যাকাউন্ট ও চ্যাটের নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে ব্যবহারকারীদের তিনটি প্রধান ফিচার চালুর তাগিদ দিয়েছেন।

এনক্রিপশন থাকা সত্ত্বেও অ্যাপের ভেতরে ব্যক্তিগত প্রাইভেসির ধাপগুলো নিশ্চিত না করলে চ্যাটিং ডেটা বা অ্যাকাউন্ট অন্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।

হোয়াটসঅ্যাপ সুরক্ষার ৩ মূল ফিচার ও চালু করার পদ্ধতি

অ্যা কাউন্ট সর্বোচ্চ সুরক্ষিত রাখতে নিচের সেটিংসগুলো চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

১. ব্যক্তিগত চ্যাটে ‘চ্যাট লক’ (Chat Lock):

অন্য কেউ ফোন ব্যবহার করলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তির গোপন বার্তা যেন দেখতে না পারে, সেজন্য চ্যাট লক সুবিধা রয়েছে। চ্যাট লক করলে তা সাধারণ ইনবক্স থেকে সরে আলাদা লকড ফোল্ডারে জমা হয়, যা খুলতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি বা পাসকোড লাগে।

চালু করার নিয়ম: নির্দিষ্ট চ্যাটের ‘Chat Info’-তে গিয়ে ‘Chat Lock’ অন করতে হবে। বাড়তি সুরক্ষায় ‘Secret Code’ দিয়ে সেই লকড ফোল্ডারটিকেও মূল তালিকা থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য করে রাখা যায়।

২. অ্যাকাউন্টে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ (Two-Step Verification):

অ্যাকাউন্ট ক্লোনিং বা সিম সোয়াপ করে অন্য ডিভাইসে লগইনের চেষ্টা ঠেকাতে এটি আবশ্যক। এটি অন থাকলে নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চালুর সময় এসএমএস ওটিপি-র পাশাপাশি ৬ সংখ্যার পিন কোডের প্রয়োজন হয়।

চালু করার নিয়ম: Settings → Account → Two-step verification অপশনে গিয়ে ৬ ডিজিটের পিন এবং একটি ব্যাকআপ ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত করতে হবে।

৩. ক্লাউড ব্যাকআপে ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ (Encrypted Backup):

গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউডে সংরক্ষিত ব্যাকআপ যেন অন্য কেউ হ্যাক করে পড়তে না পারে, সেজন্য ব্যাকআপ ফাইল এনক্রিপ্ট করা জরুরি।

চালু করার নিয়ম: Settings → Chats → Chat Backup → End-to-End Encrypted Backup অপশনে গিয়ে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা ৬৪ ডিজিটের এনক্রিপশন কি (Encryption Key) সেট করে ব্যাকআপ লক করা যায়।

সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায় অতিরিক্ত কিছু সাধারণ পরামর্শ

অ্যাকাউন্ট টেকওভার ও স্প্যাম মেসেজ থেকে নিরাপদে থাকার কৌশল:

নিবন্ধন পিন বা ওটিপি শেয়ার না করা: হোয়াটসঅ্যাপ থেকে পাওয়া যেকোনো রেজিস্ট্রেশন কোড বা পিন নম্বর অন্য কারও সাথে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা: কোনো অপরিচিত নম্বর থেকে আসা লিংক, সংবেদনশীল অফার বা ফাইল যাচাই-বাছাই না করে ক্লিক করা যাবে না।

নিয়মিত অ্যাপ আপডেট: বাগ এবং নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে সর্বদা হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করতে হবে।



Leave a Comment