ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে কয়েক মিনিটেই ফিরিয়ে আনুন সহজে
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া একটি অত্যন্ত পরিচিত সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। আইডি হ্যাক হলে কেবল প্রবেশাধিকার হারানোর ভয়ই থাকে না, বরং ব্যক্তিগত ছবি, স্পর্শকাতর বার্তা ও স্পর্শকাতর তথ্য হ্যাকারদের কব্জায় চলে যায়। প্রায়শই পাসওয়ার্ড বদলে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল বা পরিচিতদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত উপায়ে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
হ্যাক হওয়ার প্রধান লক্ষণসমূহ
অননুমোদিত পোস্ট ও পরিবর্তন: ব্যবহারকারীর অজান্তে কোনো পোস্ট, মন্তব্য বা মেসেজ আদান-প্রদান হওয়া, প্রোফাইল ছবি কিংবা ই-মেইল ও ফোন নম্বর বদলে যাওয়া।
অপরিচিত ডিভাইসের নোটিফিকেশন: ভিন্ন কোনো অজানা অবস্থান বা অচেনা স্মার্টফোন/কম্পিউটার থেকে লগইনের অ্যালার্ট আসা।
হ্যাকড অ্যাকাউন্ট রিকভারির ধাপ ও সিকিউরিটি টিপস
নির্ধারিত রিকভারি পেজ ব্যবহার: সন্দেহ হলে প্রথমেই পূর্বের ব্যবহৃত ডিভাইসের ব্রাউজার থেকে facebook.com/hacked লিংকে প্রবেশ করে স্ক্রিনের নির্দেশিকা মেনে রিকভারি চেষ্টা চালাতে হবে।
পুরোনো তথ্য ও ডিভাইস দিয়ে শনাক্তকরণ: ই-মেইল বা ফোন নম্বর বদলে ফেললে facebook.com/login/identify পেজে গিয়ে ইউজারনেম বা নাম দিয়ে অনুসন্ধান করা সম্ভব। পূর্বে ব্যবহৃত ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে মালিকানা প্রমাণের সম্ভাবনা বাড়ে।
নতুন ই-মেইল সংযোজন: রিকভারি ধাপে “No longer have access to these?” বিকল্প নির্বাচন করে একেবারেই নতুন (আগে যুক্ত ছিল না এমন) ই-মেইল ব্যবহার করে ফেসবুকের নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করা যায়।
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও টু-ফ্যাক্টর চালু: অ্যাকাউন্ট ফেরত পাওয়া মাত্রই Accounts Center-এ গিয়ে নতুন ও জটিল পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে। নিরাপত্তার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু করা আবশ্যক।
প্রতারণা থেকে সুরক্ষায় সতর্কতা
অর্থ লেনদেনে না: অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করে দেওয়ার নামে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা অচেনা ব্যক্তিকে টাকা দেওয়া সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ।
ওটিপি ও কোড গোপন রাখা: ফেসবুকের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে কেউ ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP), সিকিউরিটি কোড বা পাসওয়ার্ড চাইলে তা কখনোই প্রকাশ করা যাবে না।