প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় যেন শহীদ হতে পারি: মেজর আখতারুজ্জামান
নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি, দায়িত্বরত উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজের সুনির্দিষ্ট মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
আটকের আগে ভিডিও: ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে একটি ভিডিও বার্তা ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
ভিডিওতে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাকে এই মুহূর্তে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। আপনারা সবাই দোয়া করবেন, আমি যেন জনগণের জন্য, প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজপথে লড়াই করতে করতে শহীদ হতে পারি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রবাসীদের অধিকার ও জনগণের পাশে থাকব।”
ঘটনার সূত্রপাত: এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মদিনা থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (BG-338) ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব হলে বিমানবন্দরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসা শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও শারীরিক লাঞ্ছনার হুমকি দেন আখতারুজ্জামান।
সংরক্ষিত ভিআইপি এলাকায় অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ায় নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে শারীরিকভাবে প্রহার করেন তিনি। একই সাথে প্রবাসীদের রক্ষিত জমজমের পানি ফেলে দেওয়া এবং এভিয়েশন ও বিমান মন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করারও অভিযোগ আনা হয়েছে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায়।
উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হওয়ার পর সর্বশেষ বিগত ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার অধিকতর তদন্ত করছে।