কারামুক্ত হলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কারাফটকে জামায়াত নেতাদের অভ্যর্থনা
নিউজ ডেস্ক: বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে করা মামলায় কারামুক্ত হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আখতারুজ্জামান।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে তিনি মুক্তি পান। এ সময় তাঁকে কারাফটকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে জমায়েত হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।
হাইকোর্টে জামিন ও গ্রেপ্তারের বিবরণ
এর আগে গত রবিবার (১ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ সকালে তিনি মুক্তি পেলেন।
উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন ৩ অক্টোবর আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
মামলার পটভূমি
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে যান।
অভিযোগ উঠে, ওই সময় তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এমনকি তৎকালীন বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও তিনি আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক পরিচয়
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে অভ্যন্তরীণ নানা ইস্যুতে কথা বলায় ২০২২ সালে তাঁকে দল থেকে পঞ্চমবারের মতো বহিষ্কার করে বিএনপি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।