ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসুদেব ইউনিয়ন পুনর্বহালের দাবিতে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অখণ্ড বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে কেটে নেওয়া ৬টি গ্রাম পুনর্বহাল এবং সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন উপজেলা গঠনের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। আজ রবিবার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে বিক্ষোভকারীদের এই আকস্মিক অবরোধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের রেল যোগাযোগ এবং আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কপথ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় বাসুদেব ইউনিয়নের শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ জড়ো হয়ে রেললাইন অবরোধ করেন। এর ফলে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটার কারণে পারাবত এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি, সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে পড়েছেন।
একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা আখাউড়া-আগরতলা সড়কপথও অবরোধ করায় ভারতগামী সাধারণ যাত্রী, পাসপোর্টধারী পর্যটক এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র রোদে ও গরমে নারী, শিশুসহ হাজারো যাত্রী রাস্তায় আটকে পড়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে এলাকাবাসী জানান, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল নিয়ে ‘বরিশল’ নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয় এবং সেটি পার্শ্ববর্তী আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। গত ৪ জুন এসংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়।
বাসুদেব ইউনিয়নবাসী শুরু থেকেই প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করে আসলেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো সুরাহা করেনি। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন সম্প্রতি সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন (বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল) ভেঙে এবং পূর্বে আখাউড়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়া বরিশল ইউনিয়নকে মিলিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের পাঁয়তারা শুরু হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এই নতুন উপজেলা গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দাপ্তরিক চিঠি পাঠালে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপরই ফুসে ওঠে এলাকাবাসী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, অবরোধের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়াতে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধে পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে রেলপথ ও সড়কপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।