শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড: স্ত্রী আটক
জেলা প্রতিনিধি: শরীয়তপুর শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী জিয়া সরদারকে (৪২) হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুম করার অভিযোগে স্ত্রী আসমা আক্তারকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ড গোপন করতে অভিযুক্ত নারী স্বামীর মরদেহের হাড় ও মাংস আলাদা করে কিছু অংশ ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন এবং বাকি অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত জিয়া সরদার শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রীসহ বসবাস করতেন।
পারিবারিক কলহ ও হত্যাকাণ্ড: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে জিয়া ও আসমার বিয়ে হয়। এটি তাদের উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে তীব্র কলহ চলছিল।
আটক আসমা আক্তার পুলিশের কাছে দাবি করেন, স্বামী তাকে প্রায়ই মারধর করতেন। গত মঙ্গলবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে জিয়াকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং মারা যান।
মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড ও গুমের চেষ্টা: পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তা গোপন করতে আসমা একাই মরদেহ টুকরো টুকরো করেন। এরপর দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসার ভেতরে প্রায় তিন দিন রেখে দেওয়া হয়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসেন তিনি।
ভয়াবহ তথ্য দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, আসমা আক্তার দেহের মাংসের অংশগুলো শরীয়তপুর শহরের পালং স্কুল এলাকার আগের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান এবং তা ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন। এ সময় বাসা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমাকে আটক করে।
দেহাংশ উদ্ধার ও আইনি ব্যবস্থা: আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে একই দিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও নিহতের চারটি হাত-পা উদ্ধার করে পুলিশ।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে রাখা হয়েছিল এবং পরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযুক্ত নারীকে আটক করেছি এবং মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”