ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ: টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারী বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি ব্যাপক জলকামান ব্যবহার ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধাওয়ায় ব্যাংকের বেশ কয়েকজন গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগের অভিযোগ, আহত ১ হাসপাতালে:
প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যাংক সূত্র জানায়, সকাল থেকেই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সাধারণ গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে অ্যাকশনে নামে পুলিশ। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যায়। পরে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে জলকামান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করা হলে পুরো মতিঝিল-দিলকুশা ব্যাংকপাড়ায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
আন্দোলনকারী গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের আশঙ্কা— ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে অতীতে যেসব ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম, ঋণ কেলেঙ্কারি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, সেগুলোর আবারও পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার্থেই তারা এই প্রতিবাদ করছিলেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিচার্জে তাদের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংকপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন:
পুলিশ আন্দোলনকারীদের মূল সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরও তাদের একটি বড় অংশ পুনরায় সংগঠিত হয়ে ব্যাংকের আশপাশের গলি ও বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যাংকপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা সকাল থেকে আন্দোলনকারীদের সড়ক ও ব্যাংকের সামনে থেকে সরে যেতে বারবার অনুরোধ করেছি। যেহেতু এখানে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। তাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে বলার পরও তারা রাস্তা ছেড়ে সরে না যাওয়াতে আমরা আইনি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছি।”
বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ব্যাংকের ভেতরের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে মতিঝিল থানা পুলিশ।