পর্ষদ বদলের আতঙ্কে ইসলামী ব্যাংকে ধস: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার জরুরি আবেদন

জুন ১০, ২০২৬ | Feature-2 |

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’-তে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ও গভীর তারল্য সংকট। ব্যাংকটির শীর্ষ নেতৃত্বে আকস্মিক বড় ধরনের পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের মূল আমানতে। নতুন পর্ষদ গঠনের পর মাত্র সাত কার্যদিবসেই ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন আতঙ্কিত গ্রাহকরা।

একযোগে বিপুল পরিমাণ আমানত প্রত্যাহারের (গণ-উত্তোলন) কারণে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি ও দৈনিক তারল্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) যেখানে উদ্বৃত্ত থাকার কথা, সেখানে তা নেমে এসেছে আশঙ্কাজনক স্তরে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে থাকা ব্যাংকটির নিজস্ব চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ব্যালেন্সও মারাত্মক ঘাটতির মুখে পড়েছে।

১০ হাজার কোটি টাকার জরুরি বিশেষ তহবিল প্রার্থনা:

উদ্ভূত এই নজিরবিহীন পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন সচল রাখা ও গ্রাহকদের চাহিদামতো টাকা পরিশোধ নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তারা। এই তীব্র সংকট থেকে রক্ষা পেতে এবং ব্যাংকিং খাতকে বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার জরুরি বিশেষ তহবিল বা বিশেষ তারল্য সহায়তা চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে ব্যাংকটি।

৭ হাজার কোটি টাকার সিআরআর নেমেছে ২,৬০০ কোটিতে:

ব্যাংকিং সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগের আগে ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি উদ্বৃত্ত ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকটির সিআরআর লক্ষ্যমাত্রা যেখানে ন্যূনতম ৭ হাজার কোটি টাকা থাকার কথা, সেখানে টানা গণ-উত্তোলনের ফলে তা বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

সিআরআর-এর এই ভয়াবহ ঘাটতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে থাকা ব্যাংকটির দৈনিক চলতি হিসাবের ব্যালেন্সও এখন নিয়মিত ঘাটতির (নেগেটিভ) দিকে এগোচ্ছে। তীব্র এই তারল্য সংকটের ধাক্কা সামলে গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ তারল্য সহায়তার দিকেই তাকিয়ে আছে দেশের অন্যতম শীর্ষ এই ব্যাংকটি।



Leave a Comment