ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ: প্রধান পানি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংসের মুখে, মানবিক সংকটের আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতের অংশ হিসেবে ইরানের একটি প্রধান পানি সংরক্ষণাগার (ওয়াটার রিজার্ভার) ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করেছে মার্কিন বিমানবাহিনী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধ্বংসী হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ওই স্থাপনাটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোটি ধ্বংস হওয়ার ফলে ইরানের একটি বিশাল অঞ্চলে তীব্র পানি ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়সহ নজিরবিহীন মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
আমেরিকার পক্ষ থেকে হামলার লক্ষ্য ও যৌক্তিকতা দাবি:
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ও সামরিক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের এই অঞ্চলে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং ভারী ব্যাংকার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই পানি সংরক্ষণাগার ও বাঁধ প্রকল্পের আড়ালে এবং ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে ইরান তাদের অতি সংবেদনশীল সামরিক অবকাঠামো এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত গড়ে তুলেছিল। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর ওপর সম্ভাব্য বড় ধরনের ইরানি হামলা নস্যাৎ করতেই এই আগাম ও প্রতিরোধমূলক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।
ইরানের তীব্র ক্ষোভ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’-এর অভিযোগ:
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান এই মার্কিন হামলাকে একটি বেসামরিক ও মানবিক স্থাপনার ওপর সরাসরি বর্বরতা এবং স্পষ্ট ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বাঁধ এবং পানি সংরক্ষণাগারটি লাখ লাখ সাধারণ মানুষের খাবার পানি, কৃষিকাজ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের একমাত্র উৎস ছিল। এই বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন লঙ্ঘন করে সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।
তীব্র মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা:
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর বরাতে সিএনএন উল্লেখ করেছে, এই মেগা প্রজেক্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়া এবং লাখ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির সংকটে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এই নতুন হামলার কারণে ইরানের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যা বড় ধরনের গণ-বাস্তুচ্যুতির জন্ম দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলি জোটের সাথে ইরানের এই সরাসরি সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই ঘটনা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে এক অনিয়ন্ত্রিত ও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।