সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ২৩: ধসে পড়েছে ঘরবাড়ি

জুন ১২, ২০২৬ | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুদানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর এল-ওবেইদে (El-Obeid) একের পর এক চালানো ভয়াবহ ও নৃশংস ড্রোন হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৯ জন। গত ২০২৩ সালে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই শহরটিতে এটিই অন্যতম সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী ড্রোন হামলার ঘটনা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ‘র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ (RSF)-এর মধ্যে ক্ষমতা দখলের রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। এই যুদ্ধের সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন হামলা উভয় পক্ষের জন্য একটি প্রধান ও বিধ্বংসী যুদ্ধকৌশলে পরিণত হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বাসিন্দারা:

এল-ওবেইদ শহরের পূর্বাঞ্চলের আল-মাতার এলাকার এক বাসিন্দা জানান, আকস্মিক এই ড্রোন হামলার তীব্রতায় অনেক বাড়ির ছাদ ধসে পড়েছে এবং ঘুমন্ত বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এএফপি-কে বলেন, “কিছু বাড়ির অবস্থা এতটাই বিধ্বংসী যে, তা দেখে মনে হয়েছে সেখানে কারো বেঁচে থাকার কোনো সুযোগই ছিল না।”

শহরের কেন্দ্রস্থল আল-কুব্বা এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, নিহতদের মধ্যে তাঁর নিজের এক চাচাতো ভাইও রয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনার আগেই সাতটিরও বেশি মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে একটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে দুই শিশু এবং তাদের মা রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জানাজা ও খাদ্যবাহী ট্রাকে হামলা:

সুদান যুদ্ধজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সতর্কতার সাথে নথিভুক্ত করে আসা স্বাধীন মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ গ্রুপ জানিয়েছে, দক্ষিণ কর্ডোফান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই শহরে বুধবার সন্ধ্যা থেকে ড্রোন হামলা শুরু হয় এবং তা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে অব্যাহত থাকে।

সংগঠনটি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, এই হামলায় সাধারণ আবাসিক এলাকা ছাড়াও একটি জানাজা-পরবর্তী শোকসমাবেশ এবং সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রী বহনকারী একটি জরুরি ট্রাককে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইমার্জেন্সি লইয়ার্স গ্রুপ এই বর্বরোচিত হামলার জন্য সরাসরি আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-কে দায়ী করেছে। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অবরুদ্ধ এল-ওবেইদের কৌশলগত গুরুত্ব:

উত্তর কর্ডোফান রাজ্যের রাজধানী এল-ওবেইদ গত কয়েক মাস ধরেই আরএসএফ বাহিনীর আংশিক ও কঠোর অবরোধের মধ্যে রয়েছে। এই শহরটি দারফুর অঞ্চলে আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং দেশের পূর্বাঞ্চলে সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত মূল এলাকার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একমাত্র এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের ওপর অবস্থিত। ফলে এই শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দুই পক্ষের সংঘাত এখন চরম রূপ নিয়েছে।



Leave a Comment