১১ দলের ব্রিফিং: আগামীকাল বিজয়নগরে সমাবেশ ও ৪ জুলাই দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার ত্বরান্বিত করা, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ন রাখার দাবিতে দুই দিনের নতুন রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটের নেতারা অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণহত্যার বিচার শুরু করলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে বিচার বিভাগে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে সেই বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ শিথিল ও ধীরগতির করে দিয়েছে।
আজ সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গতকাল ২১ জুন রাতে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকেই আজকের এই জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
পলাশীর ট্র্যাজেডি ও বর্তমান বাংলাদেশের উদ্বেগজনক মিল:
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ আগামীকাল ২৩ জুনের পলাশী ট্র্যাজেডির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, “১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে সংঘটিত পরাজয় শুধু একটি যুদ্ধের পরাজয় ছিল না; এটি ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার এক করুণ অধ্যায়। আজকের বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে আমরা সেই ইতিহাসের উদ্বেগজনক কিছু মিল দেখতে পাই। বিগত ১৭ বছরে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকারকে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটলেও নতুন করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা আমরা লক্ষ্য করছি।”
একনজরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ২ দিনের রাজপথের কর্মসূচি:
দেশে গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে:
১. ২৩ জুন (মঙ্গলবার): আগামীকাল বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয় নগরে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে বিশাল সমাবেশ।
২. ৪ জুলাই (শনিবার): দেশব্যাপী সকল জেলায় একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল।
বিশেষ ঘোষণা: জুলাই অভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জোটের পক্ষ থেকে দীর্ঘ ৩৬ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা আগামী ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হবে।
সীমান্ত হত্যা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ:
প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও বিচার প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করে জোটের সমন্বয়ক বলেন, “সীমান্তে নির্বিচারে হত্যা, অপহরণ এবং বাংলাদেশি কৃষকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটলেও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। উপরন্তু, ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড, ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডি, আলেম-উলামাদের ওপর দমন-পীড়ন এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার আজও জাতি পায়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করছে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনরায় মাঠে সক্রিয় হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ করে দিচ্ছে।”
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান:
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের মৌলিক অধিকার আদায় এবং সরকারের যেকোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী আচরণের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ:
আজকের এই জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিম্নলিখিত শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন:
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (মুখ্য সমন্বয়ক, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি)
মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী (সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)
বিল্লাল মিয়াজী (ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, এলডিপি)
মুফতি মাওলানা মুসা বিন ইযহার (মহাসচিব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি)
মিরাজ খান (দফতর সম্পাদক, বাংলাদেশ লেবার পার্টি)
অধ্যাপক ইকবাল হোসেন (সাধারণ সম্পাদক, জাগপা)
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা (নেতা, এবি পার্টি)
ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল আলম (দফতর সম্পাদক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি)