ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির মিসাইল হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির দেওয়াল ভেঙে দিয়ে ইরানজুড়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও নজিরবিহীন সামরিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে দেওয়া এক কঠোর ও চূড়ান্ত সামরিক হুমকির পরপরই মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় একাধিক কৌশলগত শহর, সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক ও বিধ্বংসী হামলায় এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ডের এই অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর বন্দর আব্বাস, সিরিক, কোনারাক, ইরানশার, শাবাহার এবং পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য পরিচিত বুশের শহর। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট পারস্য উপসাগরে অবস্থিত আবু মুসা, জাস্ক এবং কেশম দ্বীপের ইরানি সামরিক অবস্থানগুলোতেও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধুমাত্র বন্দর আব্বাস শহরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টেই অন্তত আটটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে, যা পুরো এলাকাকে কাঁপিয়ে তোলে। এছাড়া ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক হাব ও লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত শাবাহার বন্দরকে এই প্রথমবারের মতো সরাসরি টার্গেট করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে বন্দরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেটি এবং একটি মূল কন্ট্রোল টাওয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হামলার পরপরই সমগ্র এলাকাটি সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে দেশটির ইরানশার বিমানবন্দরে চালানো মার্কিন রকেট হামলায় আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত এক বীর দমকলকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং উত্তর-পূর্ব ইরানের দূরবর্তী আক্কালা শহরের একটি কৌশলগত রেলওয়ে ব্রিজেও নিখুঁত হামলা চালিয়ে সেটিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বাত্মক ও নজিরবিহীন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অত্যন্ত কঠোর ও রক্তক্ষয়ী পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান। মার্কিন বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরানের শক্তিশালী এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ইরানি বাহিনীর এই আকস্মিক ও বিধ্বংসী পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (Fifth Fleet) প্রধান ঘাঁটি থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে এবং ঘাঁটির ভেতর থেকে একের পর এক একাধিক জোরালো ও লোহমর্ষক বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়েছে। বাহরাইনের পাশাপাশি জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আল-সালেম মার্কিন বিমানঘাঁটিতেও আইআরজিসির ছোঁড়া একাধিক দূরপাল্লার মিসাইল আঘাত হেনেছে, যার ফলে সেখানে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক শক্তি ইরানের মধ্যে এই সরাসরি ও ভয়াবহ মুখোমুখি সামরিক সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত ও সর্বাত্মক আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে, যা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিরক্ষী দেশসমূহ।