তুর্কি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

July 26, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: তুরস্কে পাঁচ দিনের সরকারি সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি ঢাকায় পৌঁছান। রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

তুরস্ক সফরকালে সেনাপ্রধান দেশটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের সমাধিসৌধ ‘আনিতকাবির’-এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তুর্কি স্থলবাহিনীর সদর দপ্তর পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে সামরিক রীতি অনুযায়ী ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

শীর্ষ তুর্কি সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
সফরকালে সেনাপ্রধান তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, তুর্কি জেনারেল স্টাফের প্রধান জেনারেল সেলচুক বাইরাকতারওলু, তুর্কি স্থলবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মেতিন তোকেল এবং ইস্তাম্বুল নেভাল শিপইয়ার্ডের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল রেচেপ এরদিনচ ইয়েতকিনের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এছাড়াও তিনি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এজেন্সি (এসএসবি)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আদান-প্রদান, কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই ভবিষ্যৎ সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন পর্যবেক্ষণ
সফরের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্কের বিশ্বখ্যাত ও শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে রয়েছে এএসআইএসগার্ড (ASISGUARD), তুসাশ (TUSAŞ), এমকেই (MKE), সার্সিলমাজ (Sarsılmaz), এসটিএম (STM), রকেটসান (ROKETSAN), আসেলসান (ASELSAN) এবং ড্রোন প্রস্তুতকারক বায়কার (Baykar)।

প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেনাপ্রধান অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) এবং ভবিষ্যৎ উদ্ভাবনী পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করেন।

সেনাপ্রধানের এই সফর বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



Leave a Comment