জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ৩ শতাধিক শ্রমিককে হত্যা করেছে: নজরুল ইসলাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নে ৩ শতাধিক শ্রমিক শহীদ হয়েছেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, “প্রকৃত শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও নির্যাতিতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করে তাঁদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।”

আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) বাদ আছর চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই মিছিল’-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ঐক্যের আহ্বান
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক তালিকা তৈরির দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০-এর বেশি উল্লেখ করা হলেও সরকারি গেজেটে এখনো ৯০০-এর কম নাম এসেছে। প্রকৃত শহীদের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সকল শহীদ ও আহতদের সঠিক তালিকাভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে হবে।”

একাত্তরের চেতনার সঙ্গে জুলাই বিপ্লবের মিল তুলে ধরে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। সেই আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘ দিনেও পূরণ না হওয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে। জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পদ নয়; এটি পুরো জাতির অর্জন। তাই শহীদদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে জাতীয় ঐক্যের চেতনায় দেখতে হবে।”

কর্মসংস্থান রক্ষা ও শ্রমবান্ধব পরিবেশের দাবি
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করতে শ্রমিক সমাজ জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, জুলাই যোদ্ধাদের এখনো যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। উপরন্তু বিভিন্ন স্থানে তাঁদের ওপর রাজনৈতিক হয়রানি ও হামলার ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

শিল্প খাতের অর্থনৈতিক সংকট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “দেশের একের পর এক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। জরুরি ভিত্তিতে ছাঁটাই বন্ধ করা, বন্ধ হওয়া কলকারখানা চালু করা এবং জ্বালানি সংকট দূর করে শ্রমবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।”

সমাবেশে অন্য নেতারা
মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ইসহাক এবং চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চসিক মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী।

এ ছাড়া সমাবেশে খুলশী থানা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর, কোতোয়ালী থানা জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তাক আহমদসহ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ও স্থানীয় জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন।



Leave a Comment