সরকার ৬ মিনিট যেতে না যেতেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: শাপলা চত্বরে মামুনুল হক
নিউজ ডেস্ক: বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে ঐশী বাণী স্মারণ করিয়ে কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ছয় মিনিট পার না হতেই এই সরকার গোটা জাতির সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি সরকারপ্রধানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সরকারের অনিয়ম ও বিভ্রান্ত নীতি না শুধরালে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দল না চাইলেও তারা আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে ১১ দলীয় ঐক্যের দূরপাল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের যাত্রা শুরুর পূর্বে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আয়োজিত সুবিশাল উদ্বোধনী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ
কম সময়ের ব্যবধানে রাজপথে নামার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণসমূহ ব্যাখ্যা করে আল্লামা মামুনুল হক বলেন:
আন্দোলনের যৌক্তিকতা: ছয় মাস পার হতে না হতেই কেন ১১ দল সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের কঠিন আন্দোলনে নামল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদেরকে অনেকে জিজ্ঞেস করেন কেন আমরা এত দ্রুত সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামলাম। আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ও ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ছয় মিনিট যেতে না যেতেই জাতির স্বপ্ন ও প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”
কুরআনের ভাষায় সতর্কবার্তা: সরকারপ্রধানের প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মামুনুল হক বলেন, “আমি সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআনের ভাষায় স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই—আপনারা সময় থাকতে সতর্ক ও সংশোধন হয়ে যান। তা না হলে আমরা বা জনগণ না চাইলেও আপনারা আর কোনোভাবেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।”
লংমার্চের বার্তা ও ভবিষ্যৎ পরিণতি
সরকারকে নমনীয় ও দায়িত্বশীল আচরণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রবীণ এই আলেম রাজনীতিবিদ সতর্ক করে দেন:
ভয়াবহ পরিণতির শঙ্কা: ১১ দলীয় ঐক্যের দূরপাল্লার এই দূরগামী লংমার্চের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে আল্লামা মামুনুল হক উল্লেখ করেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও সুসংগঠিতভাবে রাজপথে এই লংমার্চ পালনের মাধ্যমে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি জাতীয় ও সামাজিক বার্তাই পৌঁছে দিতে চাওয়া হচ্ছে।
সতর্কতামূলক বার্তা: তিনি আরও যোগ করেন, বিরোধী জোট রাজপথে অত্যন্ত শৃঙ্খলার সাথে এই যে বার্তা দিচ্ছে, সরকার যদি তা অনুধাবন ও উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয় বা উপেক্ষা করে, তবে আগামী দিনে তাদের জন্য রাজনৈতিক পরিণতি আরও অনেক বেশি ভয়াবহ ও অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে।