সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়া বাতিলের দাবি
নিউজ ডেস্ক: সরকার কর্তৃক সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর সংশোধিত খসড়া প্রণয়নকে বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যম ও বিরোধী রাজনৈতিক কণ্ঠ স্তব্ধ করার ঘৃণ্য চক্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও পেশাজীবী সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। আজ ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক এক সেমিনারে নেতারা আইনটি সংশোধনের পরিবর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পূর্বে গেজেট আকারে প্রকাশিত মূল আইনটি বহাল রাখার জোর দাবি জানান।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগের উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াত জ্যেষ্ঠ নেতাদের কড়া সমালোচনা
মিয়া গোলাম পরওয়ার (সেক্রেটারি জেনারেল): প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস আর সংসদে পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইনের বয়স চার-পাঁচ মাস। এত অল্প সময়ে আইন সংশোধনের নামে সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে। গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের পর এবার বিরোধী মত ও দুর্নীতি ঢাকা দিতে তারা সাংবাদিকদের হাত-পা বাঁধতে চায়।”
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল): তিনি বলেন, “বিএনপি সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট যে তারা স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে। গণভোটের রায় ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ তারা বাতিল করেছে। সবকিছু বাতিল করতে করতে একদিন জনগণই এই সরকারকে বাতিল করে দেবে।”
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সেক্রেটারি): তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সাথে তুলনা টেনে বলেন, “আওয়ামী লীগ মানহানির মামলায় ৩ বছরের সাজা ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করেছিল। আর বিএনপি তা সংশোধন করে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের কালাকানুন করতে যাচ্ছে! ফলে নিঃসন্দেহে আওয়ামী লীগের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চেয়ে বিএনপির সাইবার সুরক্ষা আইন বহুগুণে ভয়ংকর।”
মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল (ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আমীর): প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং বাসস-এর ওয়েজ বোর্ডের বৈষম্য তুলে ধরে তিনি জানান, এই সংশোধিত খসড়া তৈরি করা হয়েছে স্বাধীন সাংবাদিকতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য।
অন্যান্য নেতা ও তরুণ প্রতিনিধিদের ক্ষোভ
ছাত্রশিবির ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লা সিবগা বলেন, সরকার সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগের ফুটকপি হিসেবে কাজ করছে। সংসদীয় কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার নিলু এমপি ও ড. রেজাউল করিম সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, দুর্নীতির প্রটেকশন দিতে এই কালাকানুন বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
সাংবাদিক সমাজ ও সভাপতিমণ্ডলীর সিদ্ধান্ত
মূল প্রবন্ধ ও পেশাজীবী উপস্থিতি: মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক রফিকুজ্জামান রুমান সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সাংবাদিক নেতাদের ক্ষোভ: বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুল রহমান শাহীন, মানবকন্ঠের সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, আমার দেশ-এর এম আবদুল্লাহসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা সরকারের এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সভাপতি আবুল আসাদের বক্তব্য: খ্যাতিমান লেখক ও সাংবাদিক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। সভাপতির ভাষণে তিনি বলেন, সরকার ‘জুলাই সনদ’ মানার কথা বললেও বাস্তবে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ বাতিল করে পুরোনো কালাকানুন পুনর্বাসিত করছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারকে অবিলম্বে এই কালাকানুন তৈরির পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।