সীমান্তে পুশ ইন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১১-দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে অবৈধভাবে ‘পুশ ইন’ এবং সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে ১১-দলীয় ঐক্য। আগামী ১২ জুন দেশের সব সীমান্তবর্তী জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং ১৫ জুন রাজধানীর শাহবাগে কেন্দ্রীয়ভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে এই জোট।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
১০০ দিনে ১৯ বাংলাদেশি নিহত, পুশ ইনের চেষ্টা আড়াই হাজার
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতির একটি ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন:
পুশ ইন অপচেষ্টা: গত তিন মাসে দেশের সীমান্তের ৫০টিরও বেশি এলাকা দিয়ে ২ হাজার ৪৭৯ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে।
সীমান্তে হত্যা ও আহত: গত ১০০ দিনে বিএসএফের গুলিতে ১৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন।
অপহরণ ও আটক: একই সময়ে বিএসএফ এবং মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক মোট ৮৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতি’ পরিহারের আহ্বান
সীমান্তের চলমান পরিস্থিতিকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সীমান্তে হত্যাকাণ্ড দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও বর্তমান রূপ অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রতিবেশী দেশ একতরফাভাবে আগ্রাসী ভূমিকা নিচ্ছে, অথচ সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি সরকারকে ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতি’ পরিহার করে জাতীয় স্বার্থে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী দৃঢ় ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও জোটভুক্ত অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি এবং জাগপাসহ ১১-দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সীমান্ত সুরক্ষায় দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।