অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়
ক্রীড়া প্রতিবেদক: বিশ্ব ক্রিকেটকে স্তম্ভিত করে দিয়ে এক নতুন ইতিহাস রচনা করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়ের অভূতপূর্ব কীর্তি গড়েছে টাইগাররা। আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে অজিদের ৫ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই এই ঐতিহাসিক সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দল আজ ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দুর্দান্ত মেলবন্ধনে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পাত্তাই দেয়নি।
শুরুতেই তামিমকে হারিয়ে ধাক্কা:
মিরপুরের স্পিনবান্ধব উইকেটে টস ও ম্যাচের বিভিন্ন সমীকরণ শেষে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রানের। তবে মাঝারি এই রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের মাত্র দ্বিতীয় বলেই কোনো রান না করে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দলীয় শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বড় চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা।
সৌম্য-শান্তর প্রতিরোধ ও জয়ের গোড়াপত্তন:
শুরুর সেই বড় ধাক্কা সামলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দুর্দান্তভাবে নিজেদের হাতে তুলে নেন অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজন গড়েন ৮৬ রানের এক অনবদ্য ও প্রতিরোধ জড়ানো জুটি, যা বাংলাদেশের জয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। তবে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি তারা। মাত্র ১২ রানের ব্যবধানে এই দুই থিতু হওয়া ব্যাটারই ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। কাকতালীয়ভাবে সৌম্য সরকার এবং নাজমুল হোসেন শান্ত—দুজনই কাঁটায় কাঁটায় ৪২ রান করে আউট হন।
মাঝের ওভারে লিটন-সৈকতের বিদায় ও চাপ:
দুই সেট ব্যাটার বিদায় নেওয়ার পর উইকেটে এসে দারুণ শুরু করেছিলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাস। কিন্তু ২১ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের নায়ক ও ম্যাচসেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আজ ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন, তিনি ফেরেন মাত্র ১৫ রানে। দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়ে একপর্যায়ে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
হৃদয়-মিরাজের অবিচ্ছদ্য জুটি ও অধিনায়কের ছক্কায় জয়:
দল যখন কোণঠাসা, ঠিক তখন হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুই তরুণ তুর্কি ৫১ রানের এক অসাধারণ ও অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। দলের জয় নিশ্চিত করতে হৃদয় খেলেন ৪০ রানের এক দায়িত্বশীল ও অপরাজিত ইনিংস। অন্যদিকে অধিনায়ক মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংসের শেষ বলে এক দৃষ্টিনন্দন ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়েন। তাদের এই বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে ৩৬ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটের এক অবিস্মরণীয় জয় পায় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ফলে দেশজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। সিরিজের শেষ ম্যাচটি এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা হলেও টাইগারদের লক্ষ্য এখন অজিদের হোয়াইটওয়াশ করা।