চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি রক্ষায় বিক্ষোভ: আন্তর্জাতিক দরপত্রের দাবি

জুন ১১, ২০২৬ | Feature-2 |

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতি বাতিল করে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়িত্ব অর্পণের দাবি জানিয়েছেন বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘের নেতৃবৃন্দ।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এনসিটি বেসরকারিকরণের অপচেষ্টার প্রতিবাদে বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘ আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান। বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘের সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগরের সহ-সভাপতি মকবুল আহমদ ভূঁইয়া।

জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় আপস নয়:

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মকবুল আহমদ ভূঁইয়া বলেন, “এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এই টার্মিনালগুলোর ওপর নির্ভরশীল, কারণ দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়কারী এ বন্দরকে ঘিরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল এখন সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থ, শ্রমিক স্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন বন্দর নির্মাণ বা অবকাঠামো উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হলেও একটি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর সরাসরি বিদেশি নিয়ন্ত্রণে পরিচালনার নজির খুবই সীমিত। বাংলাদেশেও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনাল কিংবা অন্যান্য নতুন মেগা প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে ওঠা এবং সফলভাবে পরিচালিত এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবিকে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি:

শ্রমিক নেতা মকবুল আহমদ বলেন, বন্দর পরিচালনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা উচিত। একই সঙ্গে ডকুমেন্টেশন, কালেকশন, আন-স্টাফিং ও কার্গো হ্যান্ডলিংসহ কৌশলগত ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো অবশ্যই বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। সরকারের কাছে এ বিষয়ে বিচক্ষণ ও জনস্বার্থসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশ ও শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে রাজপথে বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি আমিনুল ইসলাম রুমেল, সহ-সভাপতি রেজাউল করিম সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক শাহ আলম এবং আমান উল্লাহসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে শ্রমিকদের একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বন্দর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।



Leave a Comment