ইসলামী ব্যাংক ফের দখলের চেষ্টা হচ্ছে: সংসদে ডা. শফিকুর রহমান

জুন ৯, ২০২৬ | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ-এর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। ব্যাংকটিকে ঘিরে আবারও একটি নতুন দখলকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের তৃতীয় দিনে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধিতে দেওয়া এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

‘লুটপাটের কারণে খেলাপি ঋণ ৪% থেকে বেড়ে ৫১% হয়েছে’:

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ইসলামী ব্যাংক দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং জাতীয় অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে একটি বড় উৎস। ২০১৬ সালে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নানা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করেছিল এবং সে সময় তাদের খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নজিরবিহীন ও নিয়মতান্ত্রিক লুটপাটের ফলে ব্যাংকটির মূল অর্থনীতি ধসে পড়ে। ২০২৪ সাল নাগাদ ব্যাংকটির মুনাফা ব্যাপকভাবে কমে যায় এবং খেলাপি ঋণের হার একলাফে ৫১ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়, যার ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা কোনো ধরনের লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) পাননি।”

‘একদিনেই ২ হাজার কোটি টাকার আমানত প্রত্যাহার’:

ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর ব্যাংকটি যখন পুনরায় নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল এবং মুনাফা ১০৮ কোটি টাকা থেকে ১৩৭ কোটিতে উন্নীত হয়েছিল, তখনই এর বিরুদ্ধে নতুন করে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে সম্পূর্ণ বিতর্কিত ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার ওপর অন্যায্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বর্তমান যোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।”

লিখিত নোটিশে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংকটিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি নির্দিষ্ট ‘রাজনৈতিক ট্যাগ’ লাগিয়ে নতুন করে দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যবস্থাপনা যখন ব্যাংকটির দায়িত্বে বহাল ছিল, তখন দেশের কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই প্রতিষ্ঠানের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে নতুন কৌশলে ব্যাংকটি ফের দখলের ফলে গ্রাহকদের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে সংসদে তিনি জানান, পর্ষদ বদলের এই আতঙ্কে মাত্র একদিনেই সাধারণ গ্রাহকরা ব্যাংকটি থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার আমানত বা জমানো টাকা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

বিরোধীদলীয় নেতার ৩ দফা দাবি:

দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং কোটি কোটি আমানতকারীর স্বার্থ সুরক্ষায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে প্রধান তিনটি দাবি জানিয়েছেন। সেগুলো হলো—
১. ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারগুলো দ্রুত দেশের প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।

২. ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অন্যায়, অযৌক্তিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

৩. কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী এই জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে সংসদে অবিলম্বে সাধারণ আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে।

আজকের অধিবেশনে স্পিকারের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার সীমাবদ্ধতার কারণে ডা. শফিকুর রহমান তাঁর নোটিশের পুরো লিখিত অংশ মুখে পাঠ করতে না পারলেও, দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধী দলের এই জোরালো বক্তব্য সংসদে ব্যাপক উত্তাপ ছড়িয়েছে।



Leave a Comment