৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা

জুন ১১, ২০২৬ | জাতীয় |

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই কঠোর শাস্তিমূলক ঘোষণা দেন।

এর আগে ঈদের আগের দিন গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ও পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয়টি সুস্থ নবজাতক ছটফট করতে করতে একে একে মারা যায়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম ‘অবহেলার’ অকাট্য প্রমাণ পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

তদন্ত প্রতিবেদনে গাফিলতির হাড়হিম করা চিত্র:

তদন্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ভেতরের জরাজীর্ণ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত চরম অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক ও নার্সদের অপেশাদার গাফিলতির একাধিক মারাত্মক দিক উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—

অনুপযুক্ত ও অবরুদ্ধ ওয়ার্ড: যে ওয়ার্ডটিতে নবজাতকদের রাখা হয়েছিল, সেটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের নিবিড় যত্নের জন্য মোটেও উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের তীব্র অভাব ছিল।

এসি বিকল ও ভ্যাপসা পরিবেশ: ওয়ার্ডের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল ছিল এবং তা অনিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হতো, যা নবজাতকদের জন্য ছিল দমবন্ধকর।

কোনো ডাক্তার ছিলেন না: সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, ঘটনার ওই আশঙ্কাজনক সময়ে ওয়ার্ডে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। নবজাতকদের অবস্থা গুরুতর হওয়ার পরও তাদের সময়মতো কোনো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি।

সুস্থ নবজাতকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়:

তদন্ত প্রতিবেদনে বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জন্মের পর প্রতিটি নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। প্রসব-পরবর্তী কোনো জটিলতা না থাকায় তাদের জন্য বিশেষ কোনো চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের (Incubator) প্রয়োজনীয়তাও ছিল না।

কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ চিকিৎসা প্রদান ও জরুরি জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা গ্রহণে চরম ঘাটতি ও উদাসীনতা ছিল। একই সঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক বড় ধরনের ত্রুটির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

ছয়টি নিষ্পাপ শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তবে লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি দোষী চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্বজন ও নাগরিক সমাজ।



Leave a Comment