যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১২ স্কাইডাইভারের নির্মম মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মিসৌরিতে স্কাইডাইভারদের বহনকারী একটি ছোট ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ আরোহী ১২ জনের সকলেই নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গতকাল রোববার (১৪ জুন) স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিসৌরির কানসাস সিটি থেকে প্রায় একশ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ‘বাটলার মেমোরিয়াল এয়ারপোর্ট’ থেকে উড্ডয়ন করে সিঙ্গেল ইঞ্জিনের টার্বোপ্রপ বিমানটি। এর কিছুক্ষণ পরই বাঁক নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চতায় উঠতে ব্যর্থ হয় আকাশযানটি। চালক বিমানটিকে মহাসড়কের দিকে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন এবং পরমুহূর্তেই রানওয়ে থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে একটি মাঠে নাক থুবড়ে আছড়ে পড়ে প্লেনটি। মাটিতে পড়ার সাথে সাথেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। আরোহীদের সকলেই ওই বিমানটি থেকে স্কাইডাইভ করার উদ্দেশ্যে আকাশে উড়াল দিয়েছিলেন।
তদন্তে মার্কিন ফেডারেল সংস্থা:
দুর্দেশে পতিত বিমানটি ‘স্কাইডাইভ কানসাস সিটি’ নামের একটি বেসরকারি স্কাইডাইভিং কোম্পানি কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছিল। বিমানটির মডেল ছিল নিউজিল্যান্ডের তৈরি ‘প্যাসিফিক অ্যারোস্পেস সেভেন-ফাইভ-জিরো এক্সএল’ (Pacific Aerospace 750XL), যা মূলত স্কাইডাইভার বহনের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।
রোববার বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বেটস কাউন্টির শেরিফ চ্যাড অ্যান্ডারসন বলেন, “আমরা এটিকে অত্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছি। তবে এই ঘটনার সাথে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপরাধের সম্পর্ক নেই, এটি প্রাথমিকভাবে একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে।” শেরিফ আরও জানান, বিধ্বস্ত বিমানটি কোনো বাণিজ্যিক এয়ারলাইনের মালিকানাধীন ছিল না, এটি সম্পূর্ণ স্থানীয় একটি ব্যক্তিগত ফ্লাইট ছিল।
এদিকে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিকে কোনো এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস দেওয়া হচ্ছিল না। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেন, ওই নির্দিষ্ট আকাশসীমার ধরন ও নিয়ম অনুযায়ী বিমানটির জন্য এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ রাখা বাধ্যতামূলক ছিল না। মার্কিন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) এই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তাদের তদন্ত দল ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।