উখিয়ায় ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে জামায়াত সেক্রেটারির শোক: আটকে পড়াদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি

July 8, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে একটি মাদরাসার ৮ জন শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যু এবং আরও অনেকের মাটির নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ থাকার ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত, মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বলে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে টানা ভারী বর্ষণের জেরে কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক, দুঃখ ও সমবেদনা জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, উখিয়ার পাহাড়ধসের এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে কোমলমতি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির খবর তাঁকে গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত করেছে। তিনি দুর্ঘটনায় নিহত সকল শিক্ষার্থীর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং একই সাথে এই ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, পাহাড়ধসে মাটির নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের জীবিত উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ অত্যন্ত প্রতিকূলতার মাঝেও প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এই উদ্ধার অভিযান ব্যাহত ও কঠিন হয়ে পড়েছে জানিয়ে তিনি মাটির নিচে আটকে পড়াদের দ্রুত উদ্ধারে সব ধরনের আধুনিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনা এবং এর ফলে যেসব শরণার্থী ও শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটছে, তার জন্য মূলত মিয়ানমারের নিষ্ঠুর জান্তা সরকারকে দায়ী করেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত ও নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে তাদেরকে নিজ জন্মভূমি থেকে অন্যায়ভাবে তাড়িয়ে দিয়েছে এবং বাংলাদেশের পাহাড়ের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে শরণার্থী হিসেবে মানবেতর ও অনিরাপদ জীবনযাপন করতে বাধ্য করেছে।

রোহিঙ্গাদেরকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য তিনি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনসমূহের প্রতি আরও দৃঢ় ও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।

প্রাকৃতিক এই বড় দুর্যোগে এতগুলো তাজা প্রাণের অকাল ঝরে যাওয়াকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করে জামায়াত নেতা ক্ষতিগ্রস্ত ও শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে সার্বিক আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পার্বত্য জেলাসমূহের পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী সাধারণ স্থানীয় বাসিন্দা ও শরণার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম দুর্যোগপূর্ব সতর্কতা জারি করার পরামর্শ দেন।

পাহাড়ের ঝুঁকিতে থাকা এসব পরিবারকে অতি দ্রুত নিরাপদ ও স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিজের বিবৃতি শেষ করেন।



Leave a Comment