ইরানে সংঘাত: দুই সপ্তাহে আহত প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা

July 21, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে গত ৭ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনাসদস্য কোনো না কোনো ধরনের আঘাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। তবে তাঁদের বড় ধরনের স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়নি এবং ৯৬ শতাংশ সেনাই চিকিৎসার পর ইতোমধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে গেছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সাময়িক মস্তিষ্কের আঘাত ও প্রতিপক্ষের ঝুঁকি
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, ২০২৬ সালের ৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত যেসব সেনা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই মূলত ‘মৃদু কনকাশন’ বা আকস্মিক বিস্ফোরণজনিত সাময়িক মস্তিষ্কের আঘাতে (Traumatic Brain Injury) ভুগেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনের জবাবে পেন্টাগন এই মন্তব্য প্রকাশ করে। উক্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত সেনাসদস্যদের বাস্তব তথ্য আড়াল কিংবা প্রকাশে দেরি করছে পেন্টাগন।

একই দিনে সিএনএনের অন্য একটি প্রতিবেদনে পেন্টাগনের এমন ধীরগতির সমালোচনা করা হলে পেন্টাগন আত্মপক্ষ সমর্থনে কৌশলগত সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে। পেন্টাগন জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাঠে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের জীবন নিরাপদ রাখতেই তথ্য প্রকাশে সতর্কতামূলক বিলম্ব করা হচ্ছে।

পার্নেলের ভাষ্য অনুযায়ী, “যেসব সেনা সদস্য প্রাণ হারাননি বা গুরুতর আহত হননি, তাঁদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা মানে তা সরাসরি প্রতিপক্ষের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া। এতে শত্রুভাবাপন্ন পক্ষ দ্রুত কৌশল বদলে বাকি সেনাসদস্যদের আরও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলার সুযোগ পেতে পারে।”

তিনি আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সেন্টকমের (CENTCOM) অফিসিয়াল বার্তার মাধ্যমে মার্কিন সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ও অগ্রগতির যাবতীয় তথ্য নিয়মিতভাবেই আন্তর্জাতিক বিশ্বকে জানানো হচ্ছে।

তথ্যভান্ডার হালনাগাদে বিলম্ব ও হতাহতের চিত্র
বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সরকারি হিসাবের প্রধান তথ্য উৎস হলো ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (DCAS)। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসিএএসের ডেটাবেজ হালনাগাদ হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে। আহত সেনাদের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা মূল্যায়ন ও শারীরিক পর্যালোচনার প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই মূলত এই বিলম্ব বলে পেন্টাগন দাবি করেছে।

ডিসিএএসের তথ্য অনুযায়ী—

নতুন প্রাণহানি: জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে দুই দেশের সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত একজন মার্কিন সেনার মৃত্যু ডেটাবেজে যুক্ত হয়েছিল। তিনি হলেন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টারচালক কমান্ডার গ্যাব্রিয়েল এডওয়ার্ডস; যিনি গত ১ জুলাই আরব সাগরে এক দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার পর নিহত হিসেবে নিশ্চিত হন।

সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশ: ১৩ জুলাই একজন বিমানবাহিনীর সদস্য এবং ১৭ জুলাই ১০ জন সেনা ও ৩ জন নৌসদস্য আহত হওয়ার খবর যুক্ত হয়।

২০ জুলাইয়ের হালনাগাদ: তবে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০ জুলাই ডিসিএএস তাদের হালনাগাদে অতিরিক্ত ৪ জন সেনার মৃত্যু এবং নতুন করে ২০ জন আহত সেনাসদস্যের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।



Leave a Comment