সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতৃত্ব, সেতুমন্ত্রীর সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান

July 22, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকার বড় ধরণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল জাতিসংঘে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে যৌথ-সভাপতির গৌরবময় দায়িত্ব পালন করেছে বাংলাদেশ।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশের পক্ষে যৌথ-সভাপতিত্ব করেন এবং প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

সেতুমন্ত্রীর বক্তব্য ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের ওপর জোর
অধিবেশনে প্যানেল সভাপতির বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহত হওয়ার খবর তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবিলায় শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি, সেটির কার্যকর প্রয়োগ এবং কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

মন্ত্রী বলেন, “কেবলমাত্র কাগুজে নীতি বা নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেই সংকট দূর হবে না; সড়ক পরিবহন কাঠামোর প্রতিটি স্তরে নীতিগুলোর শতভাগ বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একটি মাত্র সংস্থার কাজ নয়। এটি নিশ্চিত করতে পরিবহন, স্বাস্থ্য, পুলিশ, অর্থ, শিক্ষা, পরিবেশ এবং স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল খাত ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সরাসরি সমন্বয়, দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট বণ্টন এবং বাস্তবভিত্তিক নীতিমালার সামঞ্জস্য জরুরি।

তরুণ ও সুশীল সমাজকে যুক্ত করার আহ্বান
স্থায়ী ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, “স্থানীয় সরকার, বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ, গবেষক এবং তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে। তবে এই সামাজিক উদ্যোগগুলোকে অবশ্যই শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতার কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করা প্রয়োজন।”

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এই বিশেষ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

জাতিসংঘের এই নীতি- নির্ধারণী প্যানেলে বাংলাদেশকে যৌথ-সভাপতির আসন প্রদানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সড়ক নিরাপত্তার মান উন্নয়নে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রগতি এবং নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।



Leave a Comment