জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারে ট্রাইব্যুনালে ১১ দলের স্মারকলিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মামলার বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং চিহ্নিত আসামিদের আইনের আওতায় আনাসহ সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জোটের শীর্ষ নেতাদের এক প্রতিনিধিদল এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করে।
ট্রাইব্যুনালে জোটের শীর্ষ নেতা ও শহীদ পরিবার
স্মারকলিপি প্রদানকালে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্মারকলিপি প্রদানকালে জোট নেতাদের সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
জোটের ৭ দফা দাবির মূল বিষয়সমূহ
স্মারকলিপিতে বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ৭টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়:
প্রধান ঘটনাস্থলগুলোর তদন্ত সম্পন্ন: জুলাই-আগস্টের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের প্রধান প্রধান ঘটনাস্থলগুলোর অধিকাংশেরই তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার: অভিযুক্ত বহু পুলিশ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এখনও গ্রেপ্তার হননি; অনেকে দায়িত্বে বহাল আছেন। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
ঢাকার বাইরের ঘটনার তদন্ত: দেশের ৬১টি জেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটলেও ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়া ব্যতীত অন্যান্য জেলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও শেষ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা: আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের চিহ্নিত অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
গুম-খুন ও মরদেহ গুমের বিচার: গুম-খুন ও মরদেহ গোপনের সঙ্গে জড়িত সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুত শেষ করে পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে কঠোর আইনি বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানায় জোট।
নেতৃবৃন্দ বলেন, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার অস্বাভাবিক ধীরগতির কারণে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিচারের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানান তাঁরা।