ইয়াবাসহ আটকের পর নিজেদের দলের সাবেক নেতাকে জামায়াত বানালো আ.লীগপন্থীরা
নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামে প্যান্টের ভেতরে কোটি টাকার ইয়াবা পাচারকালে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমিরকে আটক করা হয়েছে—দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। আটক হওয়া ব্যক্তি জামায়াতের কোনো নেতা নন, বরং তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের টেকনাফ উপজেলার বহিষ্কৃত সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ উল্লাহ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থক একাধিক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে বিভ্রান্তিকর দাবি সংবলিত ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
দ্য ডিসেন্ট ও গণমাধ্যমের সত্যতা যাচাই
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভিডিওতে দৃশ্যমান আটক ব্যক্তি জামায়াতের কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে বেসরকারী টেলিভিশন ‘চ্যানেল ২৪’-এর আঞ্চলিক ফেসবুক পেজ ‘চট্টগ্রাম ২৪’ এ গত ২৪ জুলাই প্রকাশিত একই ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ ছিল—“ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা এখন করেন ইয়াবার ব্যবসা! পায়জামার ফিতা খুলতেই বেরিয়ে এলো সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবা!”
প্রকৃতপক্ষে আটক ব্যক্তি কে?
মূলধারার গণমাধ্যম ‘বাংলানিউজ২৪’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজারের ইনানী বিচসংলগ্ন এলাকায় ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ কোস্টগার্ডের হাতে আটক হন হাফিজ উল্লাহ (৬৬)। তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ডেইলপাড়ার বাসিন্দা এবং টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম *’কক্সবাজার নিউজ’-কে জানান, হাফিজ উল্লাহ পূর্বেও ইয়াবাসহ আটক হয়েছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ওই ঘটনার পরপরই তাঁকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
অভিযানের বিস্তারিত
কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সুমন আল মুকিত জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টায় ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
তল্লাশিকালে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী ওই বাস থেকে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ হাফিজ উল্লাহকে আটক করা হয়। পায়জামার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে এসব ইয়াবা বহন করছিলেন তিনি।
সিদ্ধান্ত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “চট্টগ্রামের জামায়াত আমির কোটি টাকার ইয়াবাসহ আটক” শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার। ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তি জামায়াতের কেউ নন, তিনি আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা হাফিজ উল্লাহ।