তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজপথ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদের একচ্ছত্র জরুরি শাসনের পাঁচ বছর পূর্তিতে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী তিউনিসে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। আজ রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
২০২১ সালের ২৫ জুলাই তৎকালীন তীব্র রাজনৈতিক সংকট ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখে সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে সংসদ স্থগিত ও প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদ। পরবর্তী সময়ে তিনি অধ্যাদেশের মাধ্যমে শাসনকাজ পরিচালনা এবং ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন। সেই পদক্ষেপের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের আহ্বানে রাজপথে নামেন দেশটির সাধারণ মানুষ।
সৈরশাসনের অভিযোগ ও অর্থনৈতিক সংকট
রাজধানী তিউনিসের ঐতিহাসিক রাজপথে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিরোধীরা প্রেসিডেন্টের শাসনব্যবস্থাকে ‘একচ্ছত্র স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা দেশের ক্রমাবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, তীব্র মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঘাটতির জন্য সরাসরি প্রেসিডেন্টকে দায়ী করেন।
সমাবেশে উপস্থিত একাধিক বিরোধী নেতা জানান, গত পাঁচ বছরে কাইস সাইয়েদ দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলেছেন। তারা অনতিবিলম্বে গণতান্ত্রিক সংস্কার, নির্বাচিত সংসদ বহাল এবং প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের এক দফা দাবি তুলে ধরেন।
বিরোধী ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান
২০২১ সালের জরুরি ক্ষমতা গ্রহণের পর কাইস সাইয়েদ নতুন সংবিধান জারি করেন এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তবে পাঁচ বছর পর দেশের অর্থনৈতিক মন্দা চরম আকার ধারণ করায় এবং জীবনযাত্রার সংকট তীব্র হওয়ায় আবারও সাধারণ জনগণ ও বিরোধীরা সুসংগঠিত হয়ে রাজপথে নেমেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে বিক্ষোভকারীরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও চাপ উপেক্ষা করেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পক্ষে সোচ্চার অবস্থান ব্যক্ত করেন।