বিশেষ অতিথি না করায় ফুটবল টুর্নামেন্টে বেআইনি ‘১৪৪ ধারা’ জারির মাইকিং: ছাত্রদল নেতাকে শোকজ
নাটোরে প্রতিনিধি: নাটোরে দীর্ঘ ৬০ বছরের পুরোনো একটি গ্রামীণ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় নিজেকে বিশেষ অতিথি না করায় বেআইনিভাবে ‘১৪৪ ধারা জারির’ মিথ্যা মাইকিং করে খেলা বন্ধ করে দিয়েছেন এক ছাত্রদল নেতা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) নাটোরের লালপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে এই অদ্ভুত ও বেআইনি ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মোহাম্মদ মারুফ আলী, যিনি লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
ঘটনার বিবরণ ও টুর্নামেন্টের ইতিহাস
কেশবপুর গ্রামে স্থানীয় প্রবীণদের উদ্যোগে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী ফুটবল আসর অনুষ্ঠিত হয়:
ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট: কেশবপুর গ্রামে গত ৬০ বছর ধরে নিয়মিত এই ফুটবল খেলার আয়োজন হয়ে আসছে। চলতি বছর ১৫ দিন আগে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে গ্রামের তরুণ, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের নিয়ে গঠিত বিভিন্ন দল অংশ নেয়।
অতিথি নির্বাচন ও বিতর্ক: টুর্নামেন্টের রীতি অনুযায়ী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরাই প্রধান ও বিশেষ অতিথি হয়ে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তবে অভিযুক্ত মারুফ আলী তাকে বিশেষ অতিথি এবং পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করার শর্ত দেন। আয়োজক কমিটি এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি স্বউদ্যোগে ভাড়া করা মাইক দিয়ে গ্রামে ‘১৪৪ ধারা জারি’ হওয়ার অসত্য মাইকিং করেন।
খেলা স্থগিত: মাইকিংয়ের ফলে বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার আশঙ্কায় শুক্রবার জুম্মার পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনাল ম্যাচটি বাধ্য হয়ে বন্ধ রাখেন আয়োজকরা।
প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রতিক্রিয়া
আইন অমান্য করে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা:
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য: লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ১৪৪ ধারা জারির এখতিয়ার কেবল উপজেলা প্রশাসনের রয়েছে। ওই নেতা মিথ্যা মাইকিং করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় শাস্তি ও শোকজ: সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ ইসলাম সৃজনের নির্দেশে অভিযুক্ত মারুফ আলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।