রাজনৈতিক স্লোগানকে ‘হাদিস’ মন্তব্য: ডিটিসিএ নির্বাহী পরিচালক মসিউর রহমানকে ওএসডি
নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক বক্তব্য ও স্লোগানকে ‘হাদিস’-এর সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কের জন্ম দেওয়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব জেতী প্রু। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকার ছয়টি রুটে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ কার্যক্রমের আওতায় পরীক্ষামূলক বাস চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন মসিউর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধর্মীয় বাণীর (হাদিস) সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমার আগে আমরা, সবার আগে দেশ—এ কথা কে অস্বীকার করতে পারবেন? স্বার্থপর, যার দেশপ্রেম নেই, সেই বলতে পারে, না, আমি মানি না। আমাকে বাদ দিয়ে আমরা সবাই মিলে থাকব, আর সবার আগে থাকবে দেশ। তারপরে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এটা হাদিস, হাদিস। এটা শাশ্বত বাণী।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এটা হুজুররা বললে হাদিস হয়ে যেত। তো ওনার মুখে দাড়ি নেই, টুপি পরেন না, এজন্য হাদিস হয়নি! এটা হাদিস।”
মসিউর রহমান বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছিলেন, এই স্লোগানকে হাদিস বললে অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন যে তিনি পরবর্তী পদোন্নতি বা ভালো পোস্টিংয়ের জন্য তেল মারছেন, তবে তাঁর মতে এটি একটি শাশ্বত সত্য।
একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা (সচিব) হয়ে দলীয় রাজনৈতিক স্লোগানকে ধর্মীয় হাদিসের রূপ দেওয়ার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর পর পরই সাধারণ নাগরিক, আলেম-ওলামা ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। সরকারি চাকরির আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি ওঠে।
এরই প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রশমন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার স্বার্থে তাঁকে ডিটিসিএ-র নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হলো।